চট্টগ্রাম নগরীর জনপ্রিয় খাবারের প্রতিষ্ঠান বারকোড। মুখরোচক খাবার তৈরিতে এ প্রতিষ্ঠানের বেশ সুনাম রয়েছে। তাই খাবার কিনতে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। নামিদামি এ প্রতিষ্ঠান বাইরে থেকে বেশ চাকচিক্যময়। এছাড়া খাবার পরিবেশন ও বিক্রিতেও ফিটফাট। তবে উপরে ফিটফাট হলেও ভেতরের অবস্থা একেবারে সদরঘাট। আর নামি এ প্রতিষ্ঠানের থলের বেড়াল বের করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিবেশের খাবার তৈরির মারাত্মক অনিয়ম ধরা পড়েছে বারকোড সুইটস অ্যান্ড কনফেকশনারিতে। এসব অপরাধে গুণতে হয়েছে মোটার অঙ্কের জরিমানাও।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযানে রান্নাঘরে স্যাঁতসেঁতে ফ্লোর, ভাঙা ও নোংরা টাইলস, নষ্ট ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণ, ফ্রিজের ভেতরে তেলাপোকা-ছারপোকার প্রাদুর্ভাব, খাবার সংরক্ষণ ও প্রস্তুতস্থলে বিড়ালের উপস্থিতি, খাদ্যকর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করা, ঘি লেবেলিংয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে অসম্পূর্ণ লেবেলিং, ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ না করাসহ মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনে অনিয়ম ধরা পড়ে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
রবিবার, ১ মার্চ সকালে মুরাদপুর এলাকার বারকোড সুইটস এণ্ড কনফেকশনারিতে এ অভিযান পরিচালনা করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আক্তার কণা। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আক্তার কণা বলেন, ‘রান্নাঘরের ফ্রিজে তেলাপোকা, বিড়ালের উপস্থিতি, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ না করাসহ নানাবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ৩৮ ধারানুযায়ী ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।’
এদিকে একই অভিযানে পাঁচলাইশ এলাকার ‘মিঠাই’ আউটলেটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেজুর মোড়কজাত, সংরক্ষণ ও বিক্রয়, খাদ্যদ্রব্যে অসম্পূর্ণ লেবেলিংসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট নগরীর মুরাদপুর এলাকার বারকোড ফুড জাংশনকে ফ্রিজে পচা মাংস সংরক্ষণ, রান্নায় অনুমোদনহীন ঘি ব্যবহার, একসঙ্গে কাঁচা ও রান্না করা মাংস সংরক্ষণ করাসহ নানা অনিয়মের দায়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ম্যাজিস্ট্রেট বিএম মশিউর রহমান।
পতাকানিউজ/আরবি

