ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো নিয়ে ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বৈঠকে এ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কয়েকজন মন্ত্রী গাজা নগরীতে দ্রুত ও ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর জন্য সেনাবাহিনীকে চাপ দেন। কিন্তু সেনাপ্রধান এয়ার জামির এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এখনই বড় ধরনের অভিযান চালালে জিম্মিদের জীবন হুমকির মুখে পড়বে এবং আগে থেকেই চাপে থাকা সেনাবাহিনী আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাঁর মতে, এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।
এর আগেও নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের মধ্যে কয়েক দফা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। ২০ আগস্ট নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, তিনি দ্রুত গাজা দখলের সময়সূচি তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে পরদিনই সেনাবাহিনী পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, অন্তত দুই মাস আগে এ ধরনের অভিযান সম্ভব নয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই মতপার্থক্যের পেছনে মূল কারণ হলো রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান। নেতানিয়াহু রাজনৈতিক চাপে দ্রুত ফলাফল দেখাতে চান, অন্যদিকে সেনাবাহিনী মাঠের পরিস্থিতি, জিম্মিদের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার দিকগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
সেনাবাহিনী নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে বলছে, রিজার্ভ সেনাদের একটি অংশ সরকারের পরিকল্পনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, গাজা নিয়ে সরকারের সুস্পষ্ট কোনো কৌশল নেই—না যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা, না কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য। এক রিজার্ভ সেনা, যিনি গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় দায়িত্ব পালন করছেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না আমি এমন কিছু করছি, যা আসলেই হামাসকে জিম্মিদের মুক্তি দিতে চাপ সৃষ্টি করছে।’
এমনকি আন্তর্জাতিক মহলেও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্ররা জিম্মিদের নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর সরকার রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে এই বিভাজন দূর করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
পতাকানিউজ/ওয়াইএস

