রাজধানীর হাতিরঝিলে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পরিবারের বিরুদ্ধে যুবদল পরিচয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
থানার সূত্রে জানা যায়, মরহুম খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র মরহুম খন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলুর স্ত্রী তানজিন হামিদ মিতুলের কাছ থেকে শুক্রবার রাতে যুবদল নেতাকর্মী পরিচয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং ২০ হাজার টাকার একটি চেক আদায় করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতের ঘটনায় কথিত যুবদল কর্মী শাওন (২৫), হাবিব (৩৫), সাজিদ (২২) ও সানি (৩৫) হাতিরঝিল থানার নয়াটোলা গ্রীনওয়ে এলাকার ৬৫৩ নম্বর বাসার ৪র্থ তলার ৪/বি ফ্ল্যাটে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন।
তানজিন হামিদ মিতুল জানান, ‘শুক্রবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আমার বড় বোন শারমিন ওয়াদুদ নিপা আমাকে ফোন দিয়ে জানালেন যে তার জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ টাকা প্রয়োজন। রাত ১১টা ২০ মিনিটে আমি তার বাসায় গেলে দেখি চার যুবক সেখানে উপস্থিত।’
তিনি আরও বলেন, আমি জানতে চাই কেন তারা সেখানে এসেছে। তখন শাওন কোমরে থাকা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং এক লাখ টাকা দাবি করে।

তিনি জানিয়েছেন, ‘ভয়ে রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে মগবাজার সিটি ব্যাংকের বুথ থেকে ৮০ হাজার টাকা তুলে সানিকে দেই এবং আরও ২০ হাজার টাকার একটি চেক (চেক নং ৪১০৩১৭৩) প্রদান করি।’
পরের দিন শনিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে অভিযুক্তরা পুনরায় তার বড় বোনের বাসায় আসে এবং ফ্ল্যাট খালি করার জন্য হুমকি দেয়। তারা জানায়, আগামী মাসের মধ্যে ফ্ল্যাট খালি না করলে তার বোন ও সন্তানদের হত্যা করা হবে। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
তানজিন হামিদ মিতুল সাংবাদিককে জানান, আমি আমার শ্বশুর খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পরিচয় দিয়েছি। আমার স্বামী খন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু এবং দেবর আকতার হামিদ পবনের পরিচয়ও দিয়েছি। তারপরও তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে।
তিনি অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে বলেন, অভিযুক্তরা যুবদলের।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু জানান, অভিযোগটি হাতে পেয়েছেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।
খন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিএনপির ষষ্ঠ মহাসচিব ছিলেন। তিনি ঢাকা-১ ও মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর) আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ভাষা আন্দোলনে ভূমিকার জন্য ২০০৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদে সরকারদলীয় চিফ হুইপ এবং সপ্তম সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবের সভাপতিও ছিলেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলের লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২০০৭ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহাসচিব পদে বহাল ছিলেন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
পতাকানিউজ/এনটি

