বগুড়ায় এতিমখানার পাওয়া সরকারি অনুদানের ২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। জেলার গাবতলী উপজেলার সারোটিয়া পূর্বপাড়া হযরত ফাতেমাতুজ জোহরা (রা.) মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে জেলা পরিষদ থেকে প্রকল্পের এ টাকা এতিমখানার জাল কাগজপত্র ও ভুয়া কমিটি তৈরি করে উত্তোলন করা হয়।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার, ২৯ আগস্ট দুপুরে বগুড়া মহানগরের সাতমাথায় মানববন্ধন করেছেন ওই মাদ্রাসা ও এতিমখানার সদস্য, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা হলেন- গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত হোসেন খান (সাগর) এবং গাবতলী উপজেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক দৌলত জামান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরিচালিত সারোটিয়া পূর্বপাড়া হযরত ফাতেমাতুজ জোহরা মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন তহবিলে বগুড়া জেলা পরিষদ থেকে ১৬৮ নম্বর প্রকল্পের আওতায় দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির বৈধ ও চলমান কমিটি থাকার পরেও অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে একটি ভুয়া কমিটি তৈরি করেন। পরবর্তীতে বগুড়া শহরের পার্করোড রূপালী ব্যাংক মহিলা শাখায় এতিমখানার নামে পৃথক ব্যাংক হিসাব খুলে বরাদ্দ করা অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
মানববন্ধন থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার, ভুয়া কমিটি ও ব্যাংক হিসাব বাতিল, অভিযুক্তদের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার এবং আইনানুগ ব্যবস্থার দাবিও জানানো হয়।

এতিমখানার পক্ষে মতিউর রহমান বলেন, মাদ্রাসার জন্য অনুমোদিত ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে ভুয়া কমিটি তৈরি করে ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়েছে। আমরা জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করা টাকা অবিলম্বে ফেরত চাই এবং ভুয়া কমিটি ও ব্যাংক হিসাব বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।
এতিমখানার সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, বিষয়টি জানার পর জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। জেলা পরিষদ প্রশাসক উভয়পক্ষকে ডেকে শুনানি শেষে অপরাধ স্বীকার করায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ তারা বাস্তবায়ন করেননি। এ ঘটনায় গাবতলী মডেল থানায় গত ২৭ জুলাই একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এছাড়া বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহাদত হোসেন খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

