পাবনার চাটমোহর উপজেলায় এক বিএনপি নেতার মাদকাসক্ত ছেলের হামলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার, ৮ এপ্রিল দুপুরে হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের অভিভাবকদের কাছে দেয়া হয়।
অভিযুক্ত সরোয়ার হোসেন নয়ন (৩৫) হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দিনের ছেলে। তার বাড়ি একই ইউনিয়নের চড়ইকোল পূর্বপাড়া গ্রামে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ দুপুরে হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলছিল স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের খেলা ভিডিও ধারণ করতে থাকে অভিযুক্ত নয়ন। দেখতে পেয়ে তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি নিয়ে চড়াও হয়ে মারার চেষ্টা করেন নয়ন। এসময় অন্য শিক্ষকরা এসে তাকে প্রতিহত করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিনের ছেলে নয়ন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।
স্কুলের সহকারী শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘মেয়েরা তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করেছিল, আমরাও তাকে নিষেধ করি এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলি। তখন সে প্রথমে লাঠি দিয়ে হামলার চেষ্টা করে। তাকে বাধা দেয়ায় পরে সে খুর, কাচি, শিকল নিয়ে এসে আবারও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হামলার চেষ্টা করে। আমরা শিক্ষার্থীদের স্কুলের ভেতরে রেখে প্রধান ফটক আটকে দিই। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা করে নয়ন।’
তিনি বলেন, এ ঘটনায় কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে মেয়েদের তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। আমরা তাৎক্ষণিক থানার ওসি ও ইউএনওকে বিষয়টি অবহিত করি।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত নয়নকে আটক করে। ভুক্তভোগীদের এজাহার দিতে বলা হয়েছে। এজাহার দিলে মামলা নথিভুক্ত করে নয়নকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
এদিকে অভিযুক্ত নয়নের বাবা বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিন প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, ছেলেকে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে বেশিদিন ঠিকমতো লেখাপাড়া করতে পারলো না। আমার এলাকায় তো প্রতিপক্ষের অভাব নেই। তারা আমার ছেলেকে গাঁজা, মদসহ অন্যান্য মাদক খাইয়ে এ অবস্থা করেছে। এখন আর ছেলেকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আমি অতিষ্ঠ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আইনগতভাবে যেটা হয় সেটাই হোক।’
পতাকানিউজ/এমএসআর/আরবি

