ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বিএনপির ছয়জন সংসদ সদস্য মনোননয়ন প্রত্যাশী একসঙ্গে জোট বাঁধেন। ২৪ অক্টোবর সকালে তারা আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে সাংবাদিকদেরকে জানান, যে ছয়জন জোটবদ্ধ হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে যাকেই মনোনয়ন দিক, বাকিরা ওই প্রার্থীর পক্ষ হয়ে কাজ করবেন।
ওই ছয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। এ অবস্থায় বাকি পাঁচ প্রার্থী তাদের কথা রেখে দল মনোনীত মুশফিকুর রহমানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। এমনকি ঘোষণার দিন সঙ্গে না থাকা খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেনও দলবল নিয়ে মুশফিকুর রহমানের পক্ষে কাজ শুরু করেছেন।
এক হওয়া ছয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাবেক নেতা নাসির উদ্দিন হাজারি, বিএনপি নেতা নাজমুল হোসেন খন্দকার, আখাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস, বিএনপি নেতা আবুল মুনসুর মিশন। স্টেশন এলাকায় তারা নিজেদেরকে মনোনয়ন প্রত্যাশী উল্লেখ করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মুশফিকুর রহমান ও নাসির উদ্দিন হাজারি ছিলেন জোরালো দাবিদার ও তারা এলাকায় নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছেন। নাজমুল হোসেন, মোহাম্মদ ইলিয়াস ও আবুল মুনসুর মূলত মুশফিকুর রহমানের অনুসারি। মুশফিকুর রহমানের সভা-সমাবেশ আয়োজনের পিছনে তারাই কাজ করতেন। ওই তিনজনসহ খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন বিএনপি’র বিভিন্ন পদে আসীন হওয়ার পর মুশফিকুর রহমানের প্রচারণায় বেশ জোর পায়।
এই পক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে খন্দকার বিল্লাল হোসেন থাকলেও সর্বশেষ আয়োজনে তার অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনিও মুশফিকুর রহমানের হয়ে কাজ শুরু করেছেন। মোসলেম উদ্দিন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আরো আগেই ঘোষণা দিলেও এলাকাতে তেমন নিজস্ব বলয় ছিলো না।
বিএনপি ঘোষিত প্রাথমিক তালিকায় মুশফিকুর রহমানের নাম ঘোষণার পর অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের কথা মতো কাজ শুরু করে। বৃহস্পতিবার মুশফিকুর রহমানের গণসংযোগ, ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ, ফুটবল খেলার পুরস্কার বিতরণীতে তারা অংশ নেন। আয়োজিত শুক্রবার বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আয়োজনেও তাদেরকে দেখা গেছে।
এ আসনটিতে আরেক শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া। কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি তার হাত ধরেই হয়। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বরিশল গ্রামের বাসিন্দা কবির আহমেদকে বহিরাগত তকমা দিয়ে অন্য প্রার্থীরা তাকে ‘প্রত্যাখান’ করেন। যদিও এর প্রেক্ষিতে কবির আহমেদ জানিয়েছেন, তার জন্ম বরিশল গ্রামে হলেও আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামে বাড়ি ও জমি রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মুনসুর মিশন বলেন, ‘দলের মনোনয়ন পাওয়া মুশফিকুর রহমানের পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ। মুশফিকুর রহমান মনোনয়ন পাওয়ায় কসবা -আখাউড়ার সর্বস্তরের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। ইতিমধ্যেই এই আসনের সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মুশফিকুর রহমান এর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। প্রার্থী ঘোষণার পর তারা স্বাগত জানিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণার কাজ শুরু করেছে। ৬ নভেম্বর মুশফিকুর রহমান নিজ গ্রামের মাওলানা আব্দুল খালেক (র:) মাজার ও পিতা মাতার কবর জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার কাজ শুরু করেছেন।
পতাকানিউজ/বিপিবি/কেএস

