বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসা এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম চৌধুরীকে রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার গ্রেপ্তারের সময় ব্যবহৃত গাড়িটি ভাড়া করেছিলেন পুলিশের একজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। সেই গাড়িতেই ছিলেন ডিআইজির নিরাপত্তায় নিয়োজিত একজন দেহরক্ষী। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দর থেকে আনতেও যান পুলিশের সেই ডিআইজি।
পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওই দেহরক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও ডিআইজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
মঙ্গলবার দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে আরো যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে-
এনায়েতের প্রতারণার ইতিহাস
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনায়েত করিম অন্তত দুই দশক ধরে নিজেকে একটি প্রভাবশালী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন।
কখনো সরকার পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে, কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেনশিয়াল ডিনারে আমন্ত্রণের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন।
২০০১–০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলেও তিনি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
অভিযোগ আছে, যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়ে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। ২০২১ সালে র্যাব কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসার পরও তিনি সরকার পরিবর্তনের আভাস দিয়ে রাজনৈতিক যোগাযোগে সুবিধা নেন।
ঢাকায় অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসার পর এনায়েত করিম রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দুদিন অবস্থান করেন। ওই হোটেলের বুকিং ও খরচ বহন করেন জাতীয় পার্টির রওশনপন্থী অংশের মহাসচিব পরিচয় দেওয়া কাজী মামুনুর রশিদ।
মামুনুর রশিদ বলেন, এনায়েত করিম আমার আত্মীয়। পারিবারিক সম্পর্কের কারণেই আমি তার জন্য হোটেল বুক করেছি। এর বাইরে কোনো রাজনৈতিক বা ষড়যন্ত্রমূলক ব্যাপার আমি জানি না।
তিনি দাবি করেন, এনায়েত করিম অতীতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
মামলার অগ্রগতি
গত শনিবার তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা থানায় মামলা করা হয়। মামলা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এনায়েত করিমকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
চাঞ্চল্যকর তথ্য
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র বলছে, এনায়েত করিম অতীতে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও নেপালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেসব বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেসব বৈঠকের অন্যতম অংশগ্রহণকারী ছিলেন সেই ডিআইজি, যিনি এবার তাঁর জন্য গাড়ি ও দেহরক্ষীর ব্যবস্থা করেছিলেন।
এনায়েত করিমের পরিচয় ও কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পতাকানিউজ/এআই

