ফেসবুক, ইমু ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে বিদেশে চাকরি এবং ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. রোকুনুজ্জামান রিপন (৩২)। অবশেষে প্রতারণার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার, ৮ নভেম্বর বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) আর এম ফয়জুর রহমান।
এর আগে শুক্রবার, ৭ নভেম্বর নোয়াখালীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে রিপন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাকে রংপুরের তারাগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রিপন রংপুরের তারাগঞ্জ থানার কুর্শা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিপন দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুরুতে বন্ধুত্ব স্থাপন করে। পরে বিদেশে চাকরি ও ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে আসছিল বিপুল অর্থ। এভাবে নোয়াখালীর এক ভুক্তভোগী দম্পতির কাছ থেকে তারা ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন রিপন। এ অর্থ ইসলামী ব্যাংক, সৈয়দপুর শাখায় রিপনের নামে খোলা একটি ব্যাংক হিসাব (নম্বর–২০৫০৭৭৭৭০০০৭২৬৫৭৮) এ জমা হয়। টাকা আত্মসাতের পর প্রতারক চক্র ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
গ্রেপ্তারের পর রিপনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তার প্রতারণার বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। পুলিশ তার বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ১২টি এটিএম কার্ড, একটি মনিটর এবং ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলনের প্রমাণসহ এটিএম কার্ড উদ্ধার করে।
তদন্তে জানা গেছে, রিপন নিজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে চারটি ভুয়া ব্যাংক হিসাব খুলে অর্থ আত্মসাৎ করেছিল। ইসলামী ব্যাংক সৈয়দপুর শাখা থেকে প্রাপ্ত লিখিত ডকুমেন্ট ও ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজের পেনড্রাইভও জব্দ করা হয়।
পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, ‘মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করা হয়। অবশেষে চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য রিপনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। রিপন ও তার সহযোগীরা ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘রিপন আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন এবং তার সহযোগী অপরাধীদের নামও প্রকাশ করেছেন। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
পতাকানিউজ/এইচএএ/আরবি

