সংযুক্ত আরব আমিরাত টেকসই প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপে পা রাখল নিজেদের তৈরি প্রথম হাইব্রিড কার্গো বিমান উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন মোহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিমানটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। দেশে উদীয়মান প্রযুক্তি–খাতের জন্য ঘটনাটি আক্ষরিক অর্থেই একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘লুদ অটোনোমাস’ নামের আমিরাতভিত্তিক একটি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কোম্পানি এই বিমানটি তৈরি করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হেলি’। যদিও এটিকে ‘হাইব্রিড’ বলা হচ্ছে, বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত একটি কার্গো বিমান—তবে এর সিস্টেমে রয়েছে একটি ব্যাকআপ জেনারেটর, যা প্রয়োজনমতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উড্ডয়নকে বিঘ্নহীন রাখে।
কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাতার আল মান্নায়েই গালফ নিউজকে বলেন, দীর্ঘপথ উড়ে যেতে পারে—এমন একটি বৈদ্যুতিক বিমান তৈরি করাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সাধারণ বৈদ্যুতিক ব্যাটারির চার্জ যাত্রাপথে শেষ হয়ে গেলে পুনরায় চার্জ দেওয়ার মতো অবকাঠামো অনেক জায়গায় নেই। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই হেলির প্রপেলার ও জ্বালানি ব্যবস্থায় বিশেষ প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। প্রপেলারের নতুন নকশা উড্ডয়নে দক্ষতা বাড়িয়েছে, আর ব্যাকআপ জেনারেটর ব্যাটারি নিঃশেষ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করে।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে হেলি ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সম্পূর্ণ চার্জে বিমানটি সর্বোচ্চ ২৫০ কেজি কার্গো নিয়ে একটানা ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। ফলে দুর্গম অঞ্চল, উঁচু-নিচু ভূপ্রকৃতি কিংবা যেখানে রানওয়ে বা বিমান চলাচলের প্রচলিত সুবিধা সীমিত—সেসব এলাকায় এটি জ্বালানি তেলচালিত কার্গো বিমানের চেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে কোম্পানির দাবি।
মাতার আল মান্নায়েই আরও বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে যে বৈশ্বিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় হেলি আমিরাতের বিমান–প্রযুক্তি খাতে একটি বড় অগ্রগতি। আন্তর্জাতিক বাজারে টেকসই কার্গো বিমানের যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, সেখানে হেলি আমিরাতকে নতুন অবস্থানে তুলে ধরবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রযুক্তি ও পরিবেশ–কেন্দ্রিক বিমানচালনায় যখন বিশ্ব দ্রুত নতুন সমাধান খুঁজছে, তখন হেলির আবির্ভাব শুধু আমিরাতের শিল্প–নীতি নয়, আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও নতুন সম্ভাবনার জানালা খুলতে পারে। এখন অপেক্ষা—এই প্রযুক্তি বাস্তব ব্যবহারে কতটা দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ রাখতে পারে।
পতাকানিউজ/এনটি

