বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ ‘কফি আনান চেঞ্জমেকার ২০২৫’ খেতাব অর্জন করেছেন রুয়েট শিক্ষার্থী নুসাইবা বিনতে মামুন। এ স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি তিনি। তরুণদের সামাজিক পরিবর্তনমূলক কাজকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে কফি আনান ফাউন্ডেশন প্রতিবছর এ সম্মাননা দিয়ে থাকে।
কফি আনান চেঞ্জমেকার প্রোগ্রামটি এক বছরের একটি নেতৃত্ব উন্নয়ন কার্যক্রম, যেখানে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী মাত্র ১৪ জন তরুণকে বাছাই করা হয়। এতে মাসে দুই থেকে তিনটি অনলাইন সেশন, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ওয়ান-টু-ওয়ান মেন্টরশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা এবং সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সরাসরি প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেখানে নির্বাচিতরা তাদের উদ্যোগ বিশ্বনেতা ও নীতিনির্ধারকদের সামনে উপস্থাপন করেন।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসাইবা জানান, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)-এর মাধ্যমে তিনি মনোনয়ন পান। এর আগে তিনি Generation Connect Young Leadership Programme (GCYLP)-এ অংশ নেন। পরে আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জমা দিতে হয় শিক্ষাজীবনের রেকর্ড, সংক্ষিপ্ত ভিডিও পিচ, প্রকল্পের প্রভাব বর্ণনা এবং পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা। সবশেষে প্রতিশ্রুতি, অর্জিত ফলাফল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তিতেই তাকে বাছাই করা হয়।
তার স্বীকৃতির মূল ভিত্তি হলো ‘আনন্দপথ’ (Anondopath)—একটি প্ল্যাটফর্ম যা তিনি ২০২৪ সালের মার্চে সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষা আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করতে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) ব্যবহার করা হয়। ইন্টারনেট সংযোগ বা ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি ছাড়াই শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়াল এক্সপেরিমেন্ট করতে পারে। ইতোমধ্যে রাজশাহীর ১০টি স্কুলে কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রকল্পটিকে সাদরে গ্রহণ করেছেন।
নুসাইবা বলেন, বয়স কম এবং মেয়ে হওয়ার কারণে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অনেক সময় আমার কথা এড়িয়ে গিয়ে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলে, আবার কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেন টিমে কোনো পুরুষ সদস্য আছেন কি না। কষ্ট লাগলেও নিজেকে প্রমাণ করার জন্য বারবার এগিয়ে আসতে শিখেছি।
সীমিত সম্পদ নিয়েও ছোট ছোট প্রোটোটাইপ বানিয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন, ব্যর্থতা থেকে শিখে সামনে এগিয়েছেন- জানান নুসাইবা।
ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও হলি ক্রস কলেজে পড়াশোনা শেষে তিনি রুয়েটে ভর্তি হন। সেখানেই হাল্ট প্রাইজসহ বিভিন্ন নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ডেপুটি ক্যাম্পাস ডিরেক্টর ও প্রশাসন-এইচআর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে যোগাযোগ দক্ষতা ও ফ্রিল্যান্স প্রজেক্টে সুযোগ এনে দেয়।
চেঞ্জমেকার প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে নুসাইবা ‘আনন্দপথ’ প্রকল্পে বাস্তবায়নের জন্য অনুদানও পাচ্ছেন। পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে তিনি জেনেভায় সম্পূর্ণ অর্থায়নে অনুষ্ঠিত সরাসরি প্রশিক্ষণ ও নীতি-নির্ধারকদের সামনে তার উদ্যোগ উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।
পতাকানিউজ/কেএস

