যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। গত সপ্তাহের শেষের দিকের কূটনৈতিক অচলাবস্থার জেরে রবিবার, ২৬ এপ্রিল তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ১০৬.৯৯ ডলারে স্থির হয়েছে।
মাঝে দাম কিছুটা কমার আভাস পাওয়া গেলেও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা বাজারকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫ ভাগের ১ ভাগ পরিবাহিত হয় পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম ‘উইন্ডওয়ার্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই পথটি কার্যত অচল।
যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথে দৈনিক গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত।
গত শনিবার এ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ। তেহরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের হুমকির ফলে এ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ।
এদিকে সংক নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চললে তা আলোর মুখ দেখছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। অপরদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কোনো সরাসরি বৈঠক ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন।
আরাগচি বর্তমানে কূটনৈতিক সংকট নিরসনে রাশিয়ার সহায়তা নিতে মস্কো পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তেলের দাম বাড়লেও এবং কূটনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সোমবার সকালে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের ‘নিক্কেই ২২৫’ সূচক ০.৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কসপি’ ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এতে বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পতাকানিউজ/আরবি

