ভাবতে পারেন এমন একটা গ্রাম আছে, যেখানে রাস্তায় বেরোলেই দেখা মেলে একই মুখের মানুষ? স্কুলে, বাজারে বা মাঠে যেদিকে তাকান যমজ ভাই-বোনের ছড়াছড়ি! হ্যাঁ, বাস্তবেই এমন একটি গ্রাম আছে পৃথিবীতে, যেটিকে বলা হয় টুইন ভিলেজ অর্থাৎ যমজদের গ্রাম।
রহস্যময় গ্রামটির নাম কোদিনহি। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার মালাপ্পুরম জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম কোদিনহি (Kodinhi) আজ বিশ্বজুড়ে আলোচনায়, কারণ এই গ্রামে অস্বাভাবিক সংখ্যক যমজ শিশু জন্ম নিচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার পরিবারের এই গ্রামে যমজ শিশুর সংখ্যা ৪০০ জোড়ারও বেশি, যা পৃথিবীর অন্য যেকোনো স্থানের তুলনায় অনেক বেশি।

এই রহস্যের কারণ কী?
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কেন কোদিনহিতে এত যমজ জন্ম হয়। তবে কিছু সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে-
১. জেনেটিক প্রভাব: এই অঞ্চলের মানুষের জিনে হয়তো এমন কোনো বৈশিষ্ট্য আছে, যা যমজ জন্মের সম্ভাবনা বাড়ায়।
২. পানির প্রভাব: অনেক গবেষক ধারণা করছেন, গ্রামের পানির কোনো বিশেষ খনিজ উপাদান হয়তো এই প্রবণতার জন্য দায়ী।
৩. খাদ্যাভ্যাস: স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাপন পদ্ধতিও ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এত গবেষণার পরও, এর সঠিক কারণ আজও এক অমীমাংসিত রহস্য।

আশ্চর্য তথ্য
- প্রতিবছর কোদিনহিতে জন্ম নেওয়া প্রতি ১০০০ শিশুর মধ্যে প্রায় ৪৫–৫০ জনই যমজ!
- শুধু কোদিনহিই নয়, নাইজেরিয়ার ইগবো-ওরা (Igbo-Ora) নামের আরেকটি গ্রামেও এমন একই ঘটনা দেখা যায়। সেখানেও যমজ জন্মের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি।
- স্থানীয় স্কুলগুলোতে শিক্ষকরা মজার ছলে বলেন- শিক্ষার্থীদের নামের বদলে তাদের চুলের স্টাইল দিয়েই চেনা যায়।
স্থানীয়দের অভিমত
গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আমাদের জন্য যমজ হওয়া কোনো বিস্ময় নয় এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু বাইরের লোকেরা এসে অবাক হয়ে যায়।
আর এক চিকিৎসক মজার ছলে বলেন, এখানে প্রসূতি ওয়ার্ডে আল্ট্রাসাউন্ডে দুইটা বাচ্চা দেখা মানেই ডাক্তাররা আর অবাক হন না।
কোদিনহি গ্রামে বর্তমানে সবচেয়ে বয়স্ক যমজ নারীদের মধ্যে রয়েছেন পাথুটি ও তার বোন কুনহি পাথুটি। তাদের দুজনের বয়স বর্তমানে ৭২ বছর। তাদের দুজনের মতে, তাদের গ্রাম ঈশ্বরের আশীর্বাদপুষ্ট।

পাথুটি বলেন, এটি একমাত্র ঈশ্বরের আশীর্বাদ। এছাড়া আর কিছুই নয়। বিজ্ঞান কিছুই প্রমাণ করতে পারবে না। আমরা তো বর্তমানে তিন সন্তান, চার সন্তান হতে দেখছি। সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যাবেন না, কিছু প্রশ্নের উত্তর থাকে না।
অদ্ভুত বিষয় হলো- কোদিনহি গ্রামে পুরুষরা যদি অন্য গ্রামের কোনো মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে আসেন তাদেরও যমজ সন্তান হয়। আবার এখানকার মেয়েরা অন্য গ্রামে গিয়ে যমজ সন্তানের মা হয়েছেন। কেউ কেউ প্রথমবারেই একসাথে দুই সন্তানের জননী হয়েছেন। আবার অনেকে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের সময় যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
পৃথিবীর প্রতিটি কোণে কিছু না কিছু অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে। কোদিনহি গ্রামও সেই রহস্যের এক জীবন্ত উদাহরণ।
যেখানে যমজ সন্তানদের হাসি আর মিলেমিশে থাকা মুখগুলো এক অনন্য বিস্ময় তৈরি করেছে ,যা পুরোপুরি বিজ্ঞানেও এখনো ব্যাখ্যা করতে পারেনি।
পতাকানিউজ/এনএফএম

