বিসিবিতে কোনো সংকট নেই, বোর্ড স্বাভাবিকভাবেই চলছে— এমনটাই দাবি করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সাম্প্রতিক সময়ে বোর্ডের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, গত বছরের ৬ অক্টোবরের নির্বাচন ঘিরে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একাংশের অসন্তোষ এবং বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া আলোচনা-সমালোচনার মাঝেই সোমবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, বোর্ডের কার্যক্রমে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই এবং চলমান সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই এগিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “আমি কোথাও কোনো সংকট দেখছি না। বোর্ড তার নিজস্ব নিয়মে স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় দল খেলছে, মেয়েদের দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে বোর্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও কোনো সংকট নেই। এটি একটি নির্বাচিত কমিটি, সাড়ে পাঁচ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছে। এ ধরনের প্রশ্ন আমরা আশা করি না।”
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নানা প্রসঙ্গ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অনীহা দেখিয়েছেন বুলবুল। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “এ নিয়ে কিছু না বলি। তবে খুব চেষ্টা করেছি। দিন শেষে আমিও তো একজন ক্রিকেটার।” তার এই বক্তব্যে বোঝা যায়, পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি বিতর্কে না গিয়ে বোর্ডের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি।
এদিকে সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে বিসিবির সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ প্রসঙ্গে বুলবুল জানান, এখন সেই জট পুরোপুরি কেটে গেছে। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বিষয়টি এখন পুরোপুরি সমাধান হয়েছে। মাঝখানে অনেক কিছু ঘটেছে, যার সবকিছু হয়তো গণমাধ্যমে আসেনি। সে সময় সরকারের যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা আমাকে মেনে নিতে হয়েছে। আর এখন যে সরকার দায়িত্বে আছে, তাদের সিদ্ধান্তও আমাদের মানতে হবে। শুরু থেকেই বলে আসছি, আমরা সরকারের অধীনেই কাজ করি।”
বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ
বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্ভাব্য তদন্ত প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতির বক্তব্য ছিল সতর্ক। তিনি জানান, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা নেই। “এ ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই। পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি। অনুসন্ধান সরকার করতেই পারে। তাদের সিদ্ধান্ত আমরা শুনব এবং মেনে চলব,” বলেন তিনি।
বুলবুল আরও জানান, বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন ছিল। জাতীয় দলের স্কোয়াডও চূড়ান্ত করা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাধ্যমে। “ফাহিম ভাইসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় দলের স্কোয়াড ঠিক করেছিলেন। কোথায় খেলবে, না খেলবে— সবই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতেই হয়েছে,” যোগ করেন বিসিবি সভাপতি।
সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেও বোর্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিক বলেই দাবি করছে বিসিবি নেতৃত্ব। তবে নির্বাচন-পরবর্তী অসন্তোষ, পদত্যাগ এবং বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ ঘিরে আলোচনার রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি— এমনটাই মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
-পতাকানিউজ

