অবশেষে ক্রিকেটারদের অনড় অবস্থান ও আল্টিমেটামের মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হলো এম নাজমুল ইসলামকে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি বিকেলে বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বোর্ড প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজের ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিসিবি জানায়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে এবং সংস্থার বৃহত্তর স্বার্থে নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিসিবির গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৩১ ধারা অনুযায়ী বিসিবি সভাপতির ওপর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ও বোর্ডের কার্যক্রম মসৃণ ও কার্যকরভাবে পরিচালনার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
এর আগে পরিচালক নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় বিসিবি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিসিবি সম্প্রতি বোর্ডের একজন সদস্যের করা আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য আবারও দুঃখ প্রকাশ করছে। বিসিবি এ মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট উদ্বেগ সম্পর্কে অবগত এবং ক্রিকেটের পেশাদারিত্ব, ক্রিকেটারদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ক্রিকেটীয় মূল্যবোধ বজায় রাখার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
এদিকে আজ দুপুরে বনানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে খেলা বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড়ের কথা জানায় ক্রিকেটাররা। একইসঙ্গে তারা ৫টি দাবিও উত্থাপন করেন।
এছাড়া সম্মেলনে জানানো হয়, আজ বিকেলের মধ্যে যদি বোর্ডের পক্ষ থেকে তাদের শর্ত মেনে নেয়া হলে তারা সন্ধ্যায় ম্যাচ খেলতে নামবেন।
কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘আমরা খেলার বিপক্ষে না। কিন্তু সবকিছুর একটা লিমিট আছে। এটার মাধ্যমে সবাইকে অপমান করা হয়েছে। প্রত্যেকটা সেক্টরকে উনি (নাজমুল) অপমান করেছেন। ক্রিকেটের প্রতি ওনার কোনো সম্মান নেই। আমরা অবশ্যই খেলতে চাই, তবে দাবি মেনে।’
পতাকানিউজ/আরবি

