বন্দর নগরী চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাঁটু পানিতে ডুবে গেছে পাঁচলাইশ থানা এলাকার কাতালগঞ্জ সড়ক। এছাড়া চকাবাজার কাঁচাবাজার এলাকাও পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
শুক্রবার, ১২ জুন ছুটির দিনে বেলা ১২টায় বৃষ্টি শুরু হয়। ঘণ্টা দুয়েকের বৃষ্টিতেই নগরীর কাতালগঞ্জ সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পারাপারে রিকশাচালকেরা আদায় করছেন বাড়তি ভাড়া। আবার অনেকে পায়ে হেঁটে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে চলে যান।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, এ সড়কে এখন অল্প কিংবা ভারি বৃষ্টি হলেই হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। এতে চলাচলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকার হাঁটু পানি মারিয়ে চলাচল করছে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সীরা। এসময় বেশি বিপাকে পড়তে হয় নারীদের। ছুটির দিন হওয়ায় সড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল তুলনামূলক কম। অনেকে পানি থেকে বাঁচতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করেছেন। এছাড়া রাস্তায় ভাসমান দোকানিদের বিভিন্ন মালামাল পানিতে ভাসতে দেখা যায়।
রিকশা চালকরা জানান, পানি বেশি। গাড়ি টেনে নিতে অনেক কষ্ট।

অটোরিকশা চালকেরা জানান, পানিতে গেলে গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানির মধ্যে আটকে থাকতে হয়। তাই বিকল্প সড়কে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
পথচারীরা জানান, সড়কে পানি জমে থাকায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। এ সড়কে অল্প বৃষ্টিতেই পানি উঠে যায়। জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশাচালকেরা বাড়তি ভাড়া আদায় করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের কাজ চলমান রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিকভাবে না হওয়ায় এলাকায় বৃষ্টি হলেই দ্রুত পানি জমে যায়। তবে জমে থাকা সেই পানি দ্রুতই নেমে যায়।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩০ মিলিমিটার ও তিন দশমিক এক মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে বৃষ্টিতে নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পতাকানিউজ/আরবি

