মহান মে দিবসের শ্রমিক সমাবেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া শিল্পখাত পুনর্গঠনে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে উপস্থিত শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। যেখানে আমরা ঠিক করব কত দ্রুত বন্ধ কলকারখানাগুলো চালু করা যায় এবং বেকার শ্রমিকদের কাজে ফেরানো যায়।’
বিগত সময়ের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশের শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘শুধু শ্রমিক নয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারীসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষও বঞ্চনার শিকার হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হয়।’
আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সময়ে দেশের অর্থনীতি লুটপাটের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শিল্প খাত ধ্বংসের মুখে পড়ে।’ প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘পরিকল্পিতভাবে কলকারখানা বন্ধ করে দেশকে আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের জীবনে।’

শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকেরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।’ শুধু বন্ধ কারখানা চালু নয়, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাবেশে সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ ইস্যুতেও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, যানজট নিরসনের জন্য হকারদের সরানো হলেও তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে-বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় হকারদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এতে করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষা পাবে এবং শহরের শৃঙ্খলাও বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা, যেখানে শ্রমিক শ্রেণি হবে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
-পতাকানিউজ

