ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ১১ লাখ শিশুকে টাইফয়েডের টিকা দেয়ার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ৫ অক্টোবর নাগাদ প্রায় ৩৮ ভাগ শিশু এখনো টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেনি। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে টিকা দেয়া শুরু হবে। ওইদিন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করা হবে। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয় ১ আগস্ট থেকে।
সোমবার, ৬ অক্টোবর দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা তথ্য কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র দাস টাইফয়েড টিকার রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সারাবিশ্ব ও দেশের পরিস্থিতির কথাও তিনি তুলে ধরনে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদেরকে নিয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম।
এ সময় জানানো হয়, এটি দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। নয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে টাইফয়েডের টিকা দেয়া হবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নতুন থেকে ১২ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ১৮ দিন চলবে টিকা কার্যক্রম। প্রথম ১০ দিন বিদ্যালয়ে ও পরের আটদিন স্থানীয় পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে। রেজিস্ট্রেশন ও টিকাদান কার্যক্রম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান কর্মশালার অতিথিসহ সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য অফিস থেকে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী, জেলার আখাউড়া ও আশুগঞ্জ উপজেলায় রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা কম। আখাউড়ায় ৩৮ হাজার ২১৭ ও আশুগঞ্জে ৪০ হাজার ১৯৭ জন শিশু রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।
জেলা সদরে এক লাখ ২১ হাজার ৪৭৪ জন, বাঞ্ছারামপুরে ৭৯ হাজার ৩৪০ জন, বিজয়নগরে ৭০ হাজার ৪২৬ জন, কসবায় ৭২ হাজার ৮১০ জন। এছাড়া নবীনগরে এক লাখ ২৫ হাজার ৯১৯ জন, নাসিরনগরে ৭৭ হাজার ৪২৭ জন, সরাইলে এক লাখ এক হাজার ২১৬ জন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে।
কর্মশালায় জানানো হয়, টাইফয়েড জ্বর হলো প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ। টাইফয়েড জ্বর থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে এ টিকা দেয়া জরুরি। প্রতিবছর বিশ্বের ৯০ লাখ মানুষ টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয় ও এক লাখ ১০ হাজার মানুষ মারা যান। মৃত্যুবরণকারীদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়ার এবং সাব-সাহারান আফ্রিকায় বসবাসকারী মানুষ।
এদিকে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। একটি সমীক্ষা অনুযায়ি, ২০২১ সালে চার লাখ ৭৮ হাজার জন টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং আট হাজার মারা যায়। যার মধ্যে ৬৮ শতাংশই ছিলো শিশু।
নাসিমা সুলতানা খাতুনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য দেন, সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া, প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা।
পতাকানিউজ/বিপিবি/এএইচ

