ঠিক এক বছর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বান্ধবী ফারিয়ার সঙ্গে সিআরবি এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। তখন দেখা হয়েছিল রুবেলের সঙ্গে। পরিচয়ের পর কিছু সময় আড্ডা এবং ফোন নম্বর বিনিময়। তারপর প্রায় ১ বছর দেখা নেই। কথাও হয়নি। তবে তাকে প্রায় ভাবি। কারণ, প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছিল ছেলেটি আলাদা। ফর্সা আর লম্বাটে গড়নের শরীর।
ওই সময় সদ্য মাস্টার্স শেষ করেছিল। চাকরির সন্ধানে ছিল। ফাঁকে সফটওয়ার বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে। কিছু আয় হয়। নিজের আয়ে চলে।
– তথ্যগুলো প্রথম দিনের দেখায় জানা হয়েছিল। প্রথম দিন আমার প্রতি ওর বাড়তি আগ্রহ দেখিনি। বরং মনে হয়েছিল ফারিয়ার আগ্রহ আছে রুবেলের প্রতি। অবশ্য, ফারিয়া অন্য একজনের সঙ্গে প্রেম করে। মাঝে মধ্যে ডেটে যায়। আমি সেটা জানি। ফারিয়ার সঙ্গে রুবেলের পরিচয়সূত্রও জানি।
দুজনই ক্লাসমেট। এক সঙ্গে পড়তো মাধ্যমিক পর্যায়ে। পরে রুবেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়। ফারিয়া বিশ্ববিদ্যারয়ে সুযোগ না পেয়ে পড়ে চট্টগ্রাম কলেজে। আমিও একই কলেজের ছাত্রী। দুজন এখন ক্লাসমেট। আমাদেরও মাস্টার্স শেষ। এখন কি তবে বিয়ের অপেক্ষা!
হা হা, মেয়েদের তো লেখাপড়ার পর বিয়ে যেন অবধারিত। আমার বাবা যেভাবে পাত্র খুঁজছেন, তাতে মনে হচ্ছে যেন আইবুড়ো হয়ে গেছি। অবশ্য আমি চাকরি খোঁজার তালে নেই। বাবার ঘাড়ে বসে দিব্বি খাচ্ছি আর নেট দুনিয়ার সঙ্গে প্রেমট্রেম করছি।
তবে বাস্তবে কারো সঙ্গে প্রেম করা হয়ে উঠেনি। তারপরও প্রায় ১ বছর আগে দেখা রুবেলকে প্রায় মনে পড়ে। কিন্তু ছেলেটা কেমন? পরিচয়ের পর আর ফোন করেনি। নম্বর নিল কেন?
বজ্জাত ছেলে।
যাই হোক, আমিও ফোন দিতে পারতাম। কিন্তু দিইনি।
আচ্ছা, মেয়েরা কি আর আগে থেকে ফোন দেয়? রুবেল ছেলেটা বুঝে না?
হয়তো রুবেল অন্যকে নিয়ে ব্যস্ত। তাই আমাকে মনেই রাখেনি হয়তো।
মাঝে মধ্যে অযথা এসব কথা ভাবী। বাস্তবে রুবেল আমাকে কখনোই ফোন দেয়নি। বরং আমার অবচেতন মনই রুবেলের ফোনের অপেক্ষায় থাকে। ফারিয়াকে বললে বিষয়টি সহজ হতো। কিন্তু তাকেও কখনো বলা হয়নি।
এরই মধ্যে ঘটে গেল চরম ঘটনাটি।
এক মধ্যরাতে রুবেলের ফোন থেকে কল এলো। বিরক্তবোধ করলাম। এতো রাতে কেউ ফোন করে?
ফোন রিসিভ করেই কঠিন বকা দেবো ভেবেছি। কিন্তু আমি হ্যালো বলার আগেই ওপ্রান্ত থেকে আর্তনাদ ভরা কণ্ঠ শুনে ভয়ে কণ্ঠ শুকিয়ে কাঠ। তারপর যা হলো, তা আর বর্ণনার মতো নয়।
‘আপনি… আপনি কি এই মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারীকে চেনেন’
কণ্ঠটা যেন কাঁপছিল না, ভেঙে যাচ্ছিল। আতঙ্ক আর তাড়াহুড়োর মিশ্রণে কথাগুলো আমার কানে যেন বিস্ফোরণ ঘটাল। আমি কিছুক্ষণ কথা বলতে পারলাম না। বুকের ভেতর অদ্ভুত শীতলতা নেমে এলো। এবার পাল্টা প্রশ্ন করলাম-
‘জি… কে বলছেন?’
‘আমি পলাশ চৌধুরী। অক্সিজেন মোড়ে ভয়াবহ অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। ছেলেটা অজ্ঞান। পকেটে মানিব্যাগ নেই। পরিচয়পত্র পাইনি। তার ফোনের কললিস্টের শুরুতে এই নম্বরটি পেলাম। তাই ভাবলাম, আপনি স্বজন হতে পারেন। দুর্ঘটনার খবর আগে স্বজনকে দিতে হবে। তাই কল দিলাম এই নম্বরে। প্লিজ, যদি আপনার স্বজন হয়, তবে দ্রুত আসুন। না হলে ওই পরিবারের কারো নম্বর দিন বা আপনিই কল করে জানিয়ে দিন।’
এই মুহূর্তে মনে হলো, কেউ যেন আমার চারপাশের বাতাস সরিয়ে নিয়েছে। যে ছেলেটি এক বছর আগে আমার নম্বর নিয়েছে। কখনো ফোন করেনি। তার মোবাইল ফোনের কল লিস্টে ডায়াললিস্টের শুরুতে আমার নম্বর? তবে কি সেও আমার মতো। ফোন করতে গিয়েও করেনি? আমি যেমন প্রায়ই তার নম্বর দেখি? ডায়াল করি। কিন্তু কল শুরুর আগেই কেটে দিই? রুবেলও কি তাই করতো?
রুবেল। এক বছর আগের সেই বিকেলটা হঠাৎ করেই জীবন্ত হয়ে উঠল। সিআরবির পাহাড়ি পথ, ঝিরঝির বাতাস, আর এক অচেনা ছেলের শান্ত হাসি।
আমার ফোনে রুবেলের নাম সেভ ছিল বলেই আমি নিশ্চিত হলাম এটা রুবেলের ফোন। কিন্তু সে কি আমাকে দূর থেকে ….
আমার এমন ভাবনা মুহূর্তেই কেটে গেল তার বর্তমান জীবনশঙ্কার কথা ভেবে। আমতা আমতা করে বললাম, আহত যুবকের নাম রুবেল। সদ্য মাস্টার্স শেষ করেছে। আমি তাকে চিনি। কিন্তু তার বাবা-মায়ের নম্বর আমার কাছে নেই। আরো বললাম, ‘দয়া করে পুলিশে খবর দিন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।’

‘আমরা রওনা হয়েছি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমান্সিতে নিয়ে যাচ্ছি। সম্ভব হলে আসবেন। আর রুবেলের পরিবারকে খবরটা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
কলটা কেটে গেল। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ২টা ১৮। ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ল যেন পৃথিবীর সব শব্দ হঠাৎ নিঃশেষ হয়ে গেছে।
আমি নিথর। নিঃষ্প্রাণ। বিছানায় বসে পড়ে থাকলাম অনেকক্ষণ। কি করবো বুঝতে পারছি না। রুম থেকে খোলা আকাশ দেখছি। জোৎন্সার আলোয় আমার রুম আলোকিত। কিন্তু আমার ভেতরের পৃথিবী যেন গভীর অন্ধকার। দূরে ওই যে, হালিশহরের নীরব সড়কের মতোই নিঃস্তব্ধ। আমি যেন কর্ণফুলী এবং বঙ্গোপসাগরের সমস্ত ঝড়োহাওয়া এক সঙ্গে অনুভব করছি। ঝড়-ঝাপ্টা চলছে আমার মনের আকাশে। কী করবো এখন?
দ্রুত ফোন হাতে নিলাম। ফারিয়াকে ফোন দিলাম। ওফ, তার ফোন বন্ধ। ফারিয়ার বাসা আমি চিনি। সমস্যা হচ্ছে ফারিয়া গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর গেছে দুই সপ্তাহ আগে। ফোন ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় আমার কাছে নেই ফারিয়াকে পাওয়ার জন্য।
এবার ভাবলাম, একটি ছেলে হয়তো মৃত্যুপথযাত্রী। আমি খবরটা শুনে কি বসে থাকবো? নাকি কিছু করবো?
আচ্ছা আমি কি যাবো? কিন্তু কেন যাবো? এক বছর কথা হয়নি। আমরা বন্ধু নই। আমরা প্রেমিক-প্রেমিকা নই। আমরা কিছুই না। তবু বুকের ভেতর একটা শব্দ বারবার উঠছিল – ‘যেতে হবে।’ কেন যেতে হবে—আমি জানতাম না। শুধু জানতাম, না গেলে সারাজীবন একটা অপরাধবোধ আমাকে তাড়া করবে।
এবার বিছানা ছেড়ে দাঁড়ালাম। শীতের রাত বলে শালটা কাঁধে নিলাম। চুপচাপ বেরিয়ে পড়লাম রাতের হালিশহরের নীরব রাস্তায়।
সেদিন প্রথমবার বুঝেছিলাম-মানুষ কখনো কখনো সম্পর্কের জন্য নয়, অনুভূতির জন্য দৌড়ায়।
হাসপাতালের করিডোরে ঢুকতেই জীবাণুনাশকের গন্ধে মাথা ভার হয়ে উঠল। ইমাজেন্সিতে পৌঁছে রুবেলের ফোন ডায়াল করলাম। কিন্তু ফোন বন্ধ। এবার ভয় পেলাম। উপায় কি? রাতে বাসা থেকে বের হলাম। এখন ফোন বন্ধ!
আমার হাত-পা শুকিয়ে আসতে লাগলো। একটু পানি দরকার। কিন্তু হাতে পানির বোতল নেই। আমি উদ্বিগ্ন। এমন সময় মধ্যবয়স্ক লোক এগিয়ে এসে বললেন, ‘আমি পলাশ চৌধুরী। সম্ভবত আপনি রুবেলকে খুঁজতে এসেছেন।’ উনার শার্টে শুকনো রক্তের দাগ। চোখে নিদ্রাহীন আতঙ্ক।

-পলাশ চৌধুরীর কথা শুনে প্রাণে পানি পেলাম যেন। তাহলে ঘটনা সত্যি।
‘আপনি সাবরিনা?’
‘জি।’ উত্তর দিলাম। এবার চোখের ইঙ্গিতে জানতে চাইলাম, ‘রুবেল কই?’
সে মাথা নেড়ে বলল, ‘ওটিতে নিয়েছে।’
শব্দটা কানে ঢুকতেই বুকের ভেতর কিছু একটা কেঁপে উঠল।
ওটি। অপারেশন থিয়েটার। জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানের ঘর।
‘বাঁচবে?’ আমি প্রশ্নটা করলাম, অথচ জানতাম -এ প্রশ্নের উত্তর কেউ জানে না।
পলাশ ধীরে মাথা নেড়ে বলল, ‘ডাক্তার কিছু বলেনি। অনেক রক্ত গেছে।’
সময় থেমে গেল। ঘড়ির কাঁটা ঘুরছিল। আমরা ওটির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাতে ওটি হয়-এটা আমার জানা ছিল না। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল সব। তারপরও আমি এখন ওটির সামনে।
ভোর ৪টার দিকে অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলল। ডাক্তার বললেন, ‘রক্ত লাগবে। জরুরি।’
আমি যেন হঠাৎ দৌঁড়াতে শুরু করলাম। ফোন করতে লাগলাম পরিচিতদের। ব্লাড ব্যাংকে কল দিলাম। অনুরোধ করলাম। অনুনয় করলাম। ভোরের শহর তখনও ঘুমিয়ে। অথচ আমি দৌঁড়াচ্ছি একজন প্রায় অচেনা মানুষের জন্য।
ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে প্রথম ব্যাগ রক্ত পৌঁছাল।
ঔষধ খরচসহ নানা প্রয়োজনে টাকা দরকার। বাধ্য হয়ে বাবাকে ফোন করে বিস্তারিত বললাম। তখন কণ্ঠ কাঁপছিল।
‘বাবা… একটা ছেলের অবস্থা খুব খারাপ…’
বাবা শুধু বললেন, ‘প্রাণ বাঁচানো সবচেয়ে বড় কাজ। যা লাগে করো। আমি আসছি।’
ফোন কেটে আমি অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকলাম। চোখ ভিজে যাচ্ছিল।
সকাল ৭টার দিকে ডাক্তার জানালেন, রোগীর অবস্থা খারাপ। আইসিইউ লাগবে। কিন্তু হাসপাতালের একটি আইসিইউ বেডও খালি নেই। প্রাইভেট হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিলেন।
এবার প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউর সন্ধান শুরু করলাম। পেয়ে গেলাম একটিতে। সেখানে নিতে নিতেই বেজে গেলে ৯টা। ভাগ্য ভালো দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা গেল।
এখন সকাল ১০ টা। একটু আগে পলাশ চৌধুরী বিদায় নিয়েছেন। অফিসে যাবেন। তারপর রাতে আরেক দফা আসবেন বলে জানালেন। ভদ্রলোকের বাড়ির কাছেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মানবিক কারণেই এতো কিছু করলেন। তিনি এর প্রতিদান নিশ্চয় মহান আল্লাহর কাছে পাবেন।
এখনও রুবেলের পরিবারের কেউ আসেনি। রুবেলের পরিবারের কেউ নেই। পরিচিত কেউ নেই। বন্ধুরা নেই। আমি একা। ফারিয়াকে ফোন দিলাম। বন্ধ। আবার দিলাম। বন্ধ।
তবে ভোরেই আমার বাবা মা এক সঙ্গে এসেছেন। সংক্ষিপ্তভাবে প্রয়োজনীয় তথ্যটুকু দিয়েছি শুধু। বলেছি, এক বছর আগে পরিচয় হয়েছিল। আজ দুর্ঘটনার পর মোবাইল নম্বর থেকে আমার নম্বরে পলাশ চৌধুরী নামের একজন কল দিয়ে দুর্ঘটনার কথা জানালেন। রাতে ছেলেটির জীবন বাচাঁনোর প্রয়োজনে দ্রুত বের হয়েছি। তোমাদের না বলে বের হওয়ার জন্য সরি বাবা..।
মায়ের মুখে রাগ ছিল স্পষ্ট। মা কিছু বলতে যাবেন এমন সময় মাকে থামিয়েছিলেন বাবা। বললেন, এখন চিকিৎসার সময়। বাকি কথা পরে হবে। সকাল থেকে গাড়ি চালক জহির আমার সঙ্গে আছে। ঔষধ পথ্যের প্রয়োজনে দৌঁড়ঝাপ করছে। তবে আইসিইউর সামনে আমি একা এখন।
আইসিইউর সামনে বসে থাকতে থাকতে মনে হলো-এই পৃথিবীতে কেউ জানেই না রুবেল এখন কোথায়। কেবল আমি জানি। আর এই জানাটাই যেন একটা অদৃশ্য দায়িত্ব হয়ে গেল। আইসিইউর কাঁচের ভেতর তাকিয়ে হঠাৎ মনে পড়ল সিআরবির সেই বিকেল।
ফারিয়া বলেছিল, ‘এই রুবেল। খুব ভালো ছেলে।’
রুবেল হেসে বলেছিল, ‘আপনাদের সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগলো।’
সেদিন তার চোখে তাকিয়ে অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়েছিল। যেন বহুদিনের চেনা কেউ হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
আমি নাম দিইনি সেই অনুভূতিকে। আজ বুঝলাম—নাম না দিলেও অনুভূতি হারিয়ে যায় না।
দুপুরে পুলিশ এল। দুর্ঘটনার কথা বলল। মাতাল চালকের কথা বলল। আমি শুনলাম। কিন্তু কিছুই অনুভব করলাম না। রাগ না। ক্ষোভ না।
শুধু ভয়। অদ্ভুত, গভীর ভয়। সন্ধ্যার দিকে ডাক্তার বললেন- ‘পেশেন্ট ক্রিটিকাল।’
শব্দটা কানে বাজতে লাগল- ক্রিটিকাল।
আমি চুপচাপ বসে থাকলাম। ভাবলাম -যদি সে আর কখনো চোখ না খোলে? যদি সে না জানে -কেউ তার জন্য রাতভর লড়েছে? যদি সে না জানে -একটা অচেনা মেয়ের হৃদয়ে তার জন্য ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে?
রাত নামল। হাসপাতালের আলো জ্বলে উঠল। আমি আইসিইউর কাঁচের সামনে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বললাম-
তুমি জানো না রুবেল… আমি এখানে আছি। তুমি বেঁচে ফিরলে আমি সব বলব। বলব -সেদিন প্রথম দেখাতেই তোমাকে ভালো লেগেছিল। ভিড়ভিড় করে এসব বলতে গিয়ে চোখের জল নীরবে গড়িয়ে পড়ল আমার।
রাত ১২টা ৫০ মিনিটে ডাক্তার বেরিয়ে যাচ্ছেন। অন্যজনের ডিউটি শুরু হবে হয়তো। আমার বুক ধড়ফড় করছিল। ভয়ার্ত প্রশ্ন ছুড়ে দিতেই বললেন, ‘পেশেন্ট রেসপন্ড করেছে।’
আমি বুঝতে পারলাম না। প্রশ্নবোধক চোখে শুধুই তাকিয়ে থাকলাম ডাক্তারের দিকে।
– মানে?
ডাক্তার হাসলেন আর বললেন- সে লড়ছে।
মুহূর্তেই মনে হলো, কেউ যেন অন্ধকার ঘরে একটা জানালা খুলে দিয়েছে।
আমি কাঁচের দেয়ালে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকলাম। আইসিইউর ভেতরে শুয়ে থাকা ছেলেটা জানে না—তার জীবনের জন্য কেউ রাতভর দৌঁড়েছে। জানে না-তার না বলা গল্পের ভেতরেই একটা প্রেম জন্ম নিয়েছে। আর আমি জানি-সে বেঁচে উঠলেই আমাদের গল্প শুরু হবে।
কারণ, প্রেম কখনো কখনো দেখা বা কথা থেকে শুরু হয় না। প্রেম শুরু হতে পারে ভয় থেকেও। আর আমি সেই রাতেই বুঝেছিলাম-আমি রুবেলকে হারাতে চাই না।
#

