১৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সাবেক এমপি ও যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভাঙা থানার এসআই আজাদুজ্জামান বাদী হয়ে ২৯ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করে মামলাটি করেন।
মামলার ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান খোকন মিয়াকে।
ফরিদপুর সদর থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন আজহ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এক গেজেটে ভাঙ্গা সদরপুর চরভদ্রাসন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনের অধীন ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন কেটে নগরকান্দা ও সালথা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনে জুড়ে দেয়। এর প্রতিবাদে গত ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রথমে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ভাঙ্গাবাসী। তবে ওই দিন বিকেলে ইউএনও মিজানুর রহমানের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা তিন দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেন।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার (৯-১১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত টানা তিন দিন সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ পালন করে। শুক্র-শনি বাদ দিয়ে গত রবিবার থেকে আবারো টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা দেয়।
গত রবিবার তৃতীয় দফা কর্মসূচি প্রথম দিনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশাপাশি রাজবাড়ী ভাঙ্গা ও ঢাকা খুলনা রেলপথ অবরোধ করে। এর ফলে ভাঙ্গার হামিদী ও ভাঙ্গা জংশন ও রাজবাড়ীতে তিনটি ট্রেন আটকা পড়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি সম্মুখীন হতে হয়।
এ প্রেক্ষাপটে গত রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আলগী এবং হামিরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে দেড়শ জনকে অজ্ঞতানামা আসামি দেখিয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয় ভাঙা থানায়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে। এর প্রেক্ষাপটে গত সোমবার তৃতীয় দফা অবরোধের দ্বিতীয় দিনে ভাঙ্গা থানা, উপজেলা কমপ্লেক্স, ভাঙ্গা হাইওয়ে থানাসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয় ব্যাপক হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ সহিংস ঘটনা ঘটে।
পতাকানিউজ/আইবিএম

