স্থায়ী ক্যাম্পাসের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—এমন বাস্তবতায় এখনো ভাড়া বাসায় চলছে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণে গতি না আসায় শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে ২০২২ সালে। কিন্তু এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো ভবন নেই। একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ভাড়া নেয়া বিভিন্ন ভবনে।
পিরোজপুর শহরে ভাড়া নেয়া একটি বাড়িতে চলছে ক্লাস, আর প্রশাসনিক অফিস পরিচালিত হচ্ছে পিরোজপুর ও ঢাকায় ভাড়া নেয়া দুটি ভবন থেকে। মেয়েদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীহলের একটি তলায়, আর ছাত্রদের হোস্টেল ইয়াসিন খাঁ সড়কের আরেকটি ভাড়া ভবনে।
এই অস্থায়ী ব্যবস্থায় নিয়মিত ক্লাস, ল্যাব এবং অন্যান্য কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাওমি নাওয়া বলেন, ‘আমাদের ক্লাস হয় একটি ভাড়া বাড়িতে, জায়গা সংকুলান হয় না। ল্যাব নেই, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাও নেই। প্রশাসন স্থায়ী ক্যাম্পাসের অনুমোদন পেলেও কোনো দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়নি। আমরা দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস চাই।’
২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন অনুযায়ী এখানে দুটি অনুষদে চারটি বিভাগে (গণিত, পরিসংখ্যান, মনোবিজ্ঞান, এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল) শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি বিভাগে ভর্তি করা হয় ৪০ জন শিক্ষার্থী করে। এখন পর্যন্ত দুটি ব্যাচের পাঠদান চলছে, তবে ভবিষ্যতে আরও একটি ব্যাচ যুক্ত হলে বর্তমান স্থানে কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আকতার হোসেন বলেন, ‘একটি ভাড়া ভবনে আমরা দুই ব্যাচের কার্যক্রম চালাচ্ছি। আরেকটি ব্যাচ যুক্ত হলে স্থান সংকট মারাত্মক হবে। দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বিকল্প নেই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায় ৭৫ একর জমি প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও পাওয়া গেছে। তবে এখনো জমি অধিগ্রহণ বা নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমরা ডিপিপি তৈরি করছি, আশা করছি ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সেটি প্রেরণ করা যাবে। এরপর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রকল্প ২০২৫ সালের ৩০ জুন অনুমোদিত হয়েছে। তবুও মাঠপর্যায়ে এখনো কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এভাবে ভাড়া ভবনে দীর্ঘ সময় পাঠদান চলতে থাকলে শিক্ষার মান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়বে। এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, অথচ আমাদের ল্যাবরেটরি নেই, প্রযুক্তি নেই। এটা অত্যন্ত হতাশাজনক।’
পতাকানিউজ/এনএকে/কেএস

