চালবাজারে অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে সরকার ভারতের নন-বাসমতি চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এখানে একটি নতুন বিষয় হলো- চালটি ভারত থেকেই আসবে, কিন্তু সরবরাহকারী হচ্ছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানি। কেন এমন ব্যবস্থা?
এ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার মূলত তিনটি বিষয় দেখছে- দাম, মান ও নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ।
তিনি জানান, সরাসরি ভারতের কোনো সরকারি সংস্থা বা মিলারের সঙ্গে চুক্তি করলে দর নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা থাকে। কিন্তু সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করে বলেই তারা প্রতিযোগিতামূলক মূল্য দিতে পারে, যা সরকারের পক্ষে বেশি লাভজনক।
তিনি আরও জানান, সিঙ্গাপুর বিশ্ববাজারে একটি বড় এগ্রো-কমোডিটি ট্রেডিং হাব। অনেক ভারতীয় রপ্তানিকারক তাদের পণ্য সিঙ্গাপুর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চুক্তির মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে।
ফলে বাংলাদেশ সেসব কোম্পানির কাছ থেকে পরীক্ষিত মান, সময়মতো শিপমেন্ট, এবং ট্যাক্স/ফিন্যান্সিং সুবিধা সবই একসঙ্গে পায়।
এর বাইরে রয়েছে ভারতের রপ্তানি নীতি-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা। ভারত কয়েক দফায় নন-বাসমতি চাল রপ্তানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
অনেক সময় সরাসরি রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয় না, কিন্তু ভারতীয় বেসরকারি কোম্পানিগুলো তৃতীয় দেশের (যেমন সিঙ্গাপুর) মাধ্যমে রপ্তানি করে। এর ফলে বাংলাদেশ সরাসরি ভারত সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল হয় না।
সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বাজারে চালের দাম এক সময় স্থিতিশীল হলেও আবার বাড়তে শুরু করেছে। সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নন-বাসমতি চাল আমদানি বাড়াতে চায়। অভ্যন্তরীণ মজুত, পাইকারি বাজার, মিলার ও পরিবেশকদের ওপর চাপ কমানো প্রয়োজন।
চাল আমদানির ঘোষণাই বাজারে “মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব” তৈরি করে, যা দাম কমাতে সাহায্য করে।
পতাকানিউজ/এআই

