বলিউড তারকা সালমান খানকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। কৃষ্ণসার হত্যা মামলা থেকে শুরু করে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ, সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে মতবিরোধ কিংবা সহশিল্পীদের সঙ্গে প্রকাশ্য বাদানুবাদ—বিভিন্ন কারণে বহুবার আলোচনায় এসেছেন তিনি। এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার চুল পড়া রোধে নেওয়া এক চিকিৎসা, যা সে সময় ভারতে অনুমোদিত ছিল না বলে দাবি করেছেন শিল্পপতি শৈলেন্দ্র সিংহ।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে শৈলেন্দ্র সিংহ দাবি করেন, ভারতে প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি) থেরাপি নেওয়া প্রথম তারকাদের একজন ছিলেন সালমান খান। সে সময় এই চিকিৎসা ভারতে নিষিদ্ধ থাকায় তিনি এটিকে ‘বেআইনি’ বলেই উল্লেখ করেন।
শৈলেন্দ্র জানান, একদিন তিনি সালমান খানের বাড়িতে দেখা করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত এক দৃশ্য দেখেন।
তার ভাষায়, ‘আমি দেখলাম সালমান বসে বিরিয়ানি খাচ্ছেন। আর একজন অদ্ভুত দেখতে ব্যক্তি একের পর এক তাঁর মাথার তালুতে সুচ ফোটাচ্ছেন। দৃশ্যটি দেখে আমি রীতিমতো চমকে গিয়েছিলাম। ভাবছিলাম, সালমানের মতো একজন নায়কের এমন অবস্থা কেন!’
তিনি বলেন, তখন সালমান তাকে জানান, একজন তারকা হওয়ার মূল্যই তিনি দিচ্ছেন।
বলিপাড়ার গুঞ্জন অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকেই সালমান খানের চুল পড়ার সমস্যা শুরু হয়। তারকাদের দীর্ঘদিনের ম্যানেজার রেশমা শেট্টিও একসময় দাবি করেছিলেন, এক পর্যায়ে অভিনেতার মাথার অনেকটাই চুল পড়ে গিয়েছিল।
চুলের সমস্যার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আসে সালমানের ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তেরে নাম’ ছবির কথাও। ওই সিনেমায় মানসিক ভারসাম্যহীন রাধে চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মাথা ন্যাড়া করেছিলেন তিনি। সেটিই ছিল বড় পর্দায় সালমানের শেষ ন্যাড়া লুক।

কী এই পিআরপি থেরাপি?
শৈলেন্দ্র সিংহের ভাষ্য অনুযায়ী, প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি) থেরাপিতে রোগীর শরীর থেকে অল্প পরিমাণ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। পরে সেটি সেন্ট্রিফিউজের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে প্লেটলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা আলাদা করা হয়। এরপর সেই প্লাজমা নির্দিষ্ট স্থানে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়।
চুলের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই প্লাজমা মাথার ত্বকে প্রবেশ করানো হয়। ধারণা করা হয়, প্লেটলেট থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন গ্রোথ ফ্যাক্টর চুলের গোড়া উদ্দীপিত করতে, চুলের ঘনত্ব বাড়াতে এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।
তবে শৈলেন্দ্র সিংহের দাবি, সালমান যখন এই চিকিৎসা নিয়েছিলেন, তখন ভারতে এটি অনুমোদিত ছিল না। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
-তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার
-পতাকানিউজ

