ভারত থেকে আরো ৭ হাজার টন ডিজেল এসেছে দেশে। জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি ফুয়েল টার্মিনাল থেকে পাঠানো এ চালান ডিপোতে এসে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) কাজী রবিউল আলম। তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত আমদানির অংশ হিসেবেই ২০ এপ্রিল থেকে শিলিগুড়ি-নুমালিগড় টার্মিনাল থেকে তেল পাঠানো শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তা পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়।
সরকারের জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আমদানি এখন ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। ডিপো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেও আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ৪৪ হাজার টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার টন এবং ১১ এপ্রিল ৮ হাজার টন ডিজেল পার্বতীপুরে এসেছে। নতুন ৭ হাজার টনসহ চলতি মাসে এ পর্যন্ত মোট ২০ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছাল। এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ২৫ হাজার টন ডিজেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে তিন দফায় ২২ হাজার টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল আমদানি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্ত্বি ফিরেছে জ্বালানিখাতে। এতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও কমছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামার সময়ে বিকল্প ও স্থায়ী সরবরাহ উৎস হিসেবে এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সরকারের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক আমদানির ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি ও পরিবহন খাতে ডিজেলের চাহিদা পূরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
-পতাকানিউজ

