সম্পর্কের শুরুতে অনেক আচরণই স্বাভাবিক কিংবা গভীর ভালবাসার প্রকাশ মনে হতে পারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আচরণগুলো যদি আপনার সিদ্ধান্ত, অনুভূতি ও আত্মবিশ্বাসকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তাহলে সেটি আর সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ থাকে না। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এ ধরনের আচরণকে বলা হয় ‘ম্যানিপুলেশন’ -যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ম্যানিপুলেশন সবসময় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। বরং এটি ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ভুক্তভোগী অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তিনি নিয়ন্ত্রণের শিকার হচ্ছেন। এর ফলে ব্যক্তির আত্মপরিচয়, আত্মসম্মান ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ম্যানিপুলেশনের একটি সাধারণ লক্ষণ হলো-অকারণে অপরাধবোধ তৈরি হওয়া। অনেক সময় দেখা যায়, আপনি যুক্তিযুক্ত কাজ করলেও আপনাকে এমনভাবে বোঝানো হয় যেন ভুলটা আপনারই। একইভাবে নিজের সিদ্ধান্ত, স্মৃতি বা অনুভূতি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়াও একটি সতর্কবার্তা, যা ‘গ্যাসলাইটিং’ নামে পরিচিত।
এছাড়া কথার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া, যেখানে আলোচনার শেষ পর্যন্ত দায় আপনার ওপর চাপানো হয়, সেটিও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের অংশ। আবার কখনও অতিরিক্ত ভালবাসা দেখানো এবং হঠাৎ দূরত্ব তৈরি করার মাধ্যমে মানসিক নির্ভরশীলতা বাড়ানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত সীমার প্রতি সম্মান। কিন্তু ম্যানিপুলেটিভ সম্পর্কে দেখা যায়, আপনি ‘না’ বললেই আপনাকে স্বার্থপর বা দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও একটি গুরুতর সংকেত, যা ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
‘মজা করার’ অজুহাতে অপমান করা, বারবার নিজেকে অসহায় দেখিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়া কিংবা একেক সময় একেক রকম আচরণ করে বিভ্রান্তিতে রাখা -এসব কৌশলও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ধারাবাহিক প্রভাবে একজন মানুষ ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে পারেন এবং নিজেকে অযোগ্য ভাবতে শুরু করেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ম্যানিপুলেশন সাধারণত উচ্চস্বরে বা প্রকাশ্যে আসে না; এটি নীরবে সম্পর্কের ভেতরে জায়গা করে নেয়। তাই যদি বারবার মনে হয় আপনি নিজের সত্তা হারাচ্ছেন বা সব সিদ্ধান্তে দ্বিধায় ভুগছেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার সেখানে জায়গা পেলে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় -যার প্রভাব পড়ে ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও।
তথ্যসূত্র : আজকাল
-পতাকানিউজ

