ফেনী নদীর ভাঙন থেকে নিজেদের মাথাগোঁজার ঠাই ভিটেমাটি রক্ষায় ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছেন সোনাগাজী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত শত শত মানুষ।
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে নদী ভাঙনে নিঃস্ব কয়েকশ নারী-পুরুষ। প্রায় ঘণ্টাব্যাপি চলা কর্মসূচিতে সাড়ে তিনশ পরিবারের একজন করে সদস্য প্রতিনিধি অংশ নেন। পরে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট ফেনীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ছোট ফেনী নদীর উপর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর এলাকায় নির্মিত মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে যায়। তার কয়েক বছর আগে ভেঙ্গে যায় সোনাগাজীর কাজীরহাটের রেগুলেটর।
এরপর থেকে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে ছোট ফেনী নদীর দুই পাড়ে ভাঙন তীব্র আকারে রূপ নেয়। এরমধ্যে দুই পাড়ে সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ, চান্দলা, নজির মাঝির ঘাট, গোপালগাঁও, কাজিরহাট, মিয়াজির ঘাট ও তালতলি গ্রামের কয়েক কিলোমিটার এলাকার বাড়িঘর, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে তলিয়ে গেছে। এখনও ভাঙনের হুমকির মুখে বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েক হাজার বাড়িঘর। একই পরিস্থিতি জেলার দাগনভূঞা উপজেলার তালতলি ও জগতপুর গ্রামের। এরমধ্যে দুই গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এখনও ভাঙ্গন আতঙ্কে দিনরাত কাটছে শত পরিবারের।
চর দরবেশ গ্রামের ৬৯ বয়সী বৃদ্ধ মুন্সি ফকির আহম্মদ জানান, ভাঙনের হাত থেকে সম্পদ রক্ষায় এর আগেও মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি। সবশেষ গত ১৩ জানুয়ারি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া কাজী মোতাহার আহসান জানান, আপতকালীন ভাঙন ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে। তখন নদীর গভীর থেকে বালু উত্তোলন করে ভাঙন রক্ষায় কাজ করতে গত বছরের ২৭ আগস্ট তৎকালিন জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার কাজে বালু ও মাটি উত্তোলনের অনুমতি দেন। কিন্তু তিনি অন্যত্র বদলি হলে বাধে বিপত্তি। বর্তমান জেলা প্রশাসক মনিরা হক দায়িত্ব গ্রহণ করে বালু উত্তোলনে বন্ধ করে দেন। এতে বালু ও মাটির অভাবে প্রকল্পের কাজ রেখে ঠিকাদার চলে গেছেন। আমরা এ সমস্যার দ্রুত সমাধান দাবি করছি।
পতাকানিউজ/এএএম/আরবি

