ভোলায় লামিয়া আক্তার নামে ‘ও পজেটিভ’ রক্তের গ্রুপের এক প্রসূতি নারীকে ক্রসম্যাচিং ছাড়াই তার শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে।
প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। পরে পুলিশেরর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিক্ষুব্ধ স্বজনদের দাবি এটি হত্যাকাণ্ড।
সোমবার, ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শহরের কালিনাথ রায়ের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত প্রসূতি লামিয়া আক্তার ভোলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবহাওয়া অফিস রোড এলাকার মো. শরীফের স্ত্রী।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, গত বুধবার বিকেলে লামিয়া আক্তারকে তারা বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টারে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন লামিয়া। এরপর চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীকে রক্ত দিতে হবে জানিয়ে ‘বি’ পজিটিভ রক্ত জোগাড় করতে বলেন। কিন্তু রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও তাকে ‘বি’ পজিটিভ রক্ত দেয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পর রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় রোগীকে সেখানে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টারের মালিক, চিকিৎসক ও নার্সদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে রোগীর স্বজনদের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলে বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টারের মালিক ও চিকিৎসকরা পালিয়ে যান। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ভোলা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়া উদ্দিন জানান, স্বজনদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। রোগীর স্বজনরা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পতাকানিউজ/এএইচ

