লিবিয়া থেকে বোটে ইউরোপের দেশ গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে জগন্নাথপুরের ৫ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় ৫ দালালের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে এ মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন—ছাতক থানার গয়াসপুর গ্রামের মদরিছ মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের মৃত মন্তাজ মিয়ার ছেলে আজিজুল ইসলাম, অজ্ঞাত বিলাল মিয়া, জসিম মিয়া ও এনাম মিয়া। এদের মধ্যে বিলাল মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান মেঘনা গ্রুপের এসআর হিসেবে জগন্নাথপুরে কাজ করত। কাজের সুবাদে পরিচয় হয় মানবপাচারকারী দালাল চক্রের হোতা বিলাল মিয়ার ছোট ভাই দুলন মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, তার বড় ভাই পর্তুগাল থাকে। তিনি গ্রিসে লোক পাঠান। তুমি যদি গ্রিসে যেতে চাও তাহলে ১১ লাখ টাকা দিতে হবে। বিষয়টি আমিনুর তার বাবাকে জানালে তিনি এতে রাজি হননি। পরে আমিনুর তার জমানো টাকা দিয়ে গত জানুয়ারি মাসে লিবিয়া চলে যান। সেখান যাওযার পর গ্রিসের জন্য দালালকে চুক্তি অনুয়ায়ী ১১ টাকা টাকা পরিশোধ করা হয়।
এরপর গত ২৮ মার্চ অবৈধপথে নৌকায় করে সাগরপথে গ্রিসের উদেশ্যে জগন্নাথপুরের ৫ জনসহ ৩৮ বাংলাদেশিসহ মোট ৪৫ জন যাত্রা করে। ৫-৬ দিন থেকে সাগরে থাকাকালে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভূমধ্যসাগরে জগন্নাথপুরের ৫জনসহ ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তাদের মরদেহ সাগরের পানিতে ফেলা দেয়া হয়।
মামলার বাদী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে এসআর পদে চাকুরি করত। কাজের সুবাদে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের প্ররোচনায় সে আমাকে না জানিয়ে লিবিয়া চলে যায়। গত ২৮ মার্চ জানতে পারি, ভূমধ্যসাগরে খাবার ও পানির অভাবে আমার ছেলেসহ ১৮ বাংলাদেশি মারা গেছে। দালাল চক্রের সদস্যরা তাদের মরদেহ সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দেয়। সেই দালালদের বিরুদ্ধে আইনাগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি মামলা করেছি।
জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাগরপথে জগন্নাথপুরের ৫ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
পতাকানিউজ/এডি/আরবি

