ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদানসহ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর। সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনের তিনটি নতুন বৈশিষ্ট্য এটিকে অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় অনন্য করছে। এগুলো হলো- সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, তাদের প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার।’
উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে বডিওর্ণ ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ইত্যাদি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রিজাইডিং অফিসার ও আনসার সদস্যরা নির্বাচনি সামগ্রী নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গেলে এটি চালু করা হবে।’
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, ‘প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি লাগানো হয়েছে কিনা নির্বাচনের পূর্বে তা নিশ্চিত করতে হবে। যেসব কেন্দ্রে বাউন্ডারি ওয়াল নেই, সেসব ভোটকেন্দ্রে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করতে হবে, প্রয়োজনে বাঁশ দিয়ে হলেও বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি করতে হবে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্স উপজেলায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় নিয়ে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় বিভিন্ন প্রার্থীদের প্রতিনিধি ও পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখতে হবে। কেননা, কোনো কোনো আসনে পোস্টাল ব্যালট ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ উপদেষ্টা এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সচেতন থাকার নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু রিজার্ভ ফোর্স রাখতে হবে। ফজরের সময় থেকে তারা দায়িত্ব পালন শুরু করবে, সে সময় থেকে শুরু করে ফলাফল গণনা ও প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। ভোট গণনা দেরি হলে তা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। সেজন্য রিজার্ভ ফোর্স রাখতে হবে এবং তাদের খাওয়া-দাওয়ার সুবন্দোবস্ত করতে হবে। তবে কোন অবস্থাতেই প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ, অনৈতিক সুবিধা ও খাবার গ্রহণ করা যাবে না।’
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, র্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক প্রমুখ।
এছাড়া বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের নির্বাচনি প্রস্তুতি ভালো। বর্তমানে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সহিংসতার হার খুব কম। তিনি এসময় সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।’
পতাকানিউজ/আরবি

