ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর মতে, বর্তমান নীতিমালা সাংবাদিকদের হয়রানির পথ খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনের তিন ধরনের শক্তির টানাপোড়েনের ভেতর দিয়েই আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে ‘রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)’ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমান নীতিমালায় প্রিসাইডিং অফিসারকে অবহিত করার শর্তটি হয়রানির হাতিয়ার হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইন ও বিধিবিধানে আংশিক পরিবর্তন আনা হলেও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এখনো কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য আরোপিত শর্তগুলো তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
গত ২৩ জুলাই নির্বাচন কমিশন যে গণমাধ্যম নীতিমালা জারি করেছে, সেখানে ভোটকক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচার, গোপন কক্ষে ছবি তোলা ও সাক্ষাৎকার নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিক ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে আগে প্রিসাইডিং অফিসারকে জানাতে হবে। একসঙ্গে দুজনের বেশি সংবাদকর্মী প্রবেশ করতে পারবেন না এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না।
এই প্রেক্ষাপটে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এ বাধা অপসারণ করা দরকার। তবে সেটি না হলেও সাংবাদিকদের নিজেদের অবস্থান থেকে, আইন ও নীতিমালার মধ্যে থেকে, সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিকরণ ও প্রতিষ্ঠান দুর্বলকরণের কারণে দেশের শাসনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রশাসনের পেশাদারি ও নিরপেক্ষতা কমেছে।
‘প্রশাসনে এখন তিন ধরনের শক্তি সক্রিয় একদলীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, প্রতিস্থাপিত দলীয় গোষ্ঠী এবং নিরপেক্ষ থাকতে চাওয়া একটি ছোট পেশাজীবী গোষ্ঠী। নির্বাচন এই টানাপোড়েনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে’ মন্তব্য করেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুরো প্রশাসন হঠাৎ বদলানো সম্ভব নয়। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ও পেশাদারি গড়ে তুলতে হবে। সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে, তবে তা যথেষ্ট নয়।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এসব দুর্বলতা মাথায় রেখেই আপনাদের কাজ করতে হবে। কোথায় আইন প্রয়োগ হচ্ছে, কোথায় ভোটারদের অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে এবং কোথায় ব্যর্থতা ঘটছে সেগুলোই তুলে ধরা আপনাদের দায়িত্ব। এটি আপনাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব, আইনগত অধিকার ও কর্তব্য। আমরা যদি নিরপেক্ষভাবে, সত্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করি এবং স্বচ্ছতার দাবি অব্যাহত রাখি, তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আনার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না চায়, তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন কঠিন হবে। তাই পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
পতাকানিউজ/এনটি

