পেকুয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী গণমিছিলে প্রায় লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছে। রোববার সকাল থেকে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থায় মিছিলে যোগ দিতে শুরু করেন। কেউ প্লে-কার্ড হাতে নিয়ে, কেউ সালাহউদ্দিন আহমদ বা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি প্রদর্শন করছিলেন। অনেকে নাচ-গানসহ ধানের শীষের প্রতীক হাতে নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছিলেন।
মিছিলটি পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরীর বাজার থেকে শুরু হয়ে বানৌজা সড়ক হয়ে পেকুয়া সাকুরপাড় স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছায়, যেখানে একটি পথসভায় মিলিত হন নেতাকর্মীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের ধারণা অনুযায়ী, এতে প্রায় লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত গণমিছলের সম্মুখভাগে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ নিজে। উপস্থিতি এতটাই ব্যাপক ছিল যে, এটি পেকুয়ার অতীতের সকল নির্বাচনী রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
মিছিল শেষে পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ ভোটারদের ১২ই ফেব্রুয়ারী ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “পেকুয়া বাজার থেকে মিছিল শুরু করে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে বানৌজা সড়ক হয়ে সাকুরপাড় স্টেশন পর্যন্ত আসা নেতাকর্মীরা ক্লান্ত হলেও, তাদের উদ্দীপনা অসাধারণ।”
নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “আগামীকাল রাতের মধ্যেই সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম শেষ হবে। ১০ তারিখ সকাল ৮টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণার সময়সীমা শেষ হয়ে যাবে।” তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রেই অবস্থান করতে হবে এবং ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না। শান্তি বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা এবং ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম রোধ করতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি নিশ্চিত করেছেন, মা-বোনেরা নিরাপদে নিজেদের পরিচয় দিয়ে ভোট দিতে পারবেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, “গত ১৬–১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে পারেনি। ইনশাআল্লাহ, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য নতুন যাত্রা শুরু করবে এবং শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে আর কখনো রক্ত দিতে হবে না।”
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী এডভোকেট হাসিনা আহমদ, তাদের পুত্র সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক জেড এম মুসলেম উদ্দিন, ডাক্তার বেলাল হায়দার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আহছান উল্লাহসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ।
-পতাকানিউজ/এমজেসি

