দল মনোনয়ন না দিলেও ভোটের মাঠে থাকছেন বিএনপি’র সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে মোবাইল ফোনে কথা হলে এ প্রতিবেদকে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল বেলা ১২টায় সরাইল উপজেলার সহকারি রিটানিং অফিসারের কার্যালয় থেকে আমার মনোনয়পত্র সংগ্রহ করা হবে। আমিও দুপুরের মধ্যে এলাকায় যাবো।’
এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘অবশ্যই নির্বাচন করবো।’ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে আপনার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দল দলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি আমার সিদ্ধান্ত নিবো। আমি নির্বাচন করবো।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসন থেকে নির্বাচনে লড়বেন রুমিন ফারহানা। তবে বিএনপি তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কাছে বিএনপির ছেড়ে দেয়া চারটি আসনের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ রয়েছে।
মঙ্গলবার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসন ছেড়ে দেয়ার কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি দেওয়া হয় উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মনোনয়ন। ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। সেই তালিকায় তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কারও নাম ঘোষণা করেনি দলটি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট ভোটার আছেন চার লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ জন। এর মধ্যে সরাইল উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ভোটার দুই লাখ ৮৮ হাজার ৬০৯টি, আশুগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে এক লাখ ৫৩ হাজার ৯৯ ও বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়নে ভোট আছে ৫৭ হাজার ৭৪০টি। বিজয়নগর উপজেলার দু’টি ইউনিয়ন ওই আসনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সামনে থেকে কাজ করেছেন।
২০ ডিসেম্বর বিকেলে উপজেলার সৈয়দটুলা গ্রামের খেলার মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচন করার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। নিজের নির্বাচনে অংশগ্রহন করা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি জানিনা বাপের মতো বেটিরও কপাল আছে কি-না। বাপ স্বতন্ত্র ছিলেন, বেটিও স্বতন্ত্র- সময়ই এর উত্তর দিবে। মনোনয়ন আমি কিনবো না। এই মনোনয়ন আমার এলাকার ভোটারদের। তারা যদি মনে করেন, তবেই সেটা আমার হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ১৯৭৩ সালে আপনাদের বাপ-দাদার ভোটে স্বতন্ত্র নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তখন শেখ হাসিনার বাপ শেখ মুজিবুর রহমান আমার বাপকে জিততে দেয়নি।’
জোটের স্বার্থে দল এ আসনটি ছেড়ে দেয়ার পর রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপি এত বড় দল। তাদের ভালো-মন্দ দেখতে হয়। যেহেতু জমিয়তে উলামায়ের সঙ্গে তারা জোট করেছে, আসন না দিলে কেমন করে জোট হবে? দল বাধ্য হয়ে তাদেরকে আসন দিয়েছে।’
পতাকানিউজ/বিপিবি/কেএস

