চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ভিডিও সোমবার সকালে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, মঞ্চে থাকা এক বক্তা ‘পাকিস্তান পাকিস্তান’ বলে স্লোগান তুললে উপস্থিত অনেকেই ‘জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ বলে তার সঙ্গে সুর মেলাচ্ছেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, রবিবার, ৩০ নভেম্বর মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নে আয়োজিত এক কোরআন তিলাওয়াত সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানস্থলের একজন উপস্থিত দর্শক স্লোগান দেওয়ার মুহূর্তটি মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
প্রায় ২০ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তা দু’হাত তুলে প্রথমে ‘পাকিস্তান পাকিস্তান’ স্লোগান দেন, পরে শ্রোতারা একযোগে ‘জিন্দাবাদ’ বলে চিৎকার করেন। এরপর তিনি ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগান তুললে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও একই থাকে। শেষে ‘নারায়ে তাকবির’ ধ্বনি শোনা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরনবি রুমি জানান, সাউথ সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের কারীরা অংশ নেন। পাকিস্তান থেকে আগত এক বক্তা মঞ্চে উঠতেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তার দেশের নাম ধরে স্লোগান তুলেছিলেন।
সম্মেলনে থাকা আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ইরান, মিসর, ফিলিপাইন ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। যে দেশ থেকে যিনি মঞ্চে উঠেছেন, সঞ্চালক তার দেশের নাম উল্লেখ করে স্লোগান তুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতেও দেখা যায়— মিসর থেকে আসা প্রতিযোগীকে ‘মিসর জিন্দাবাদ’ বলে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে আয়োজক প্রতিষ্ঠান সাওতুল কোরআন ইনস্টিটিউটের পরিচালক হাফেজ তাওহিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন রিসিভ হয়নি।
এদিকে ভাইরাল ভিডিওটির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সন্দ্বীপের মুক্তিযোদ্ধারা। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোলায়মান বাদশা বলেন, ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানান।
সন্দ্বীপের ইউএনও মংচিংনু মারমা বলেন, তিনি এখনো ভিডিওটি দেখেননি এবং কেউ তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। তবে এমন কিছু হয়ে থাকলে তা দুঃখজনক, বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
সন্দ্বীপ থানার ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরীও জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর তিনি পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।
পতাকানিউজ/এআই

