ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার খালাসের চেষ্টা চালায় সাইফ পাওয়ারটেক। যারা সম্প্রতি বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব হারিয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) রাত ২টায় ট্রেইলরযোগে একটি কনটেইনার বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টা করা হয়। এসময় এনসিটি গেইটে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী উৎপল ধর সন্দেহ প্রকাশ করলে যাচাইয়ের জন্য ডেলিভারি কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয়।
সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে আসে স্বাক্ষরটি ভুয়া এবং কাগজপত্র জাল। বিষয়টি বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে কনটেইনারটি আটকে দেয়া হয় এবং জালিয়াতিতে জড়িত তিনজনকে আটক করে বন্দর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আটকরা হলেন-সাইফ পাওয়ারটেকের কর্মী মেহেদি হাসান হৃদয় ও সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং টেইলর চালক মো. দুলাল।
চট্টগ্রাম বন্দর থানার ওসি কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান জানান, ‘তারা একটি সম্পূর্ণ ভুয়া ডেলিভারি অর্ডার তৈরি করে কনটেইনারটি বের করার চেষ্টা করছিল। কাগজে থাকা স্বাক্ষরও ছিল জাল। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলার পর আদালতে পাঠিয়েছি।’
ওসি আরও জানান, ‘কনটেইনারটির বৈধ কাগজপত্র পাওয়া গেলে পণ্য এবং মালিক শনাক্ত করা যাবে’।
বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব গত জুন ২০২৫ মাসে সাইফ পাওয়ারটেকের পরিবর্তে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেডের হাতে যায়।
বন্দরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চুক্তি বাতিলের পরেও সাইফ পাওয়ারটেকের কিছু কর্মী মাঠ পর্যায়ে অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে কাগজপত্র, স্বাক্ষর কিংবা ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং বাইপাস করা সহজ হচ্ছিল। এই ধরনের কাজ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে—এবার ধরা পড়ল।’
পতাকানিউজ/এএস/আরবি

