হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জামারগাঁও এলাকায় ৪ গ্রামের সংঘর্ষে সাব্বির হোসেন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন। বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড এলাকায় টমটম ও সিএনজি ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার ২ সেপ্টেম্বর, বেলা ১২টার দিকে উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের রাঁধাপুর সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সাব্বির হোসেন রাঁধাপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী ফয়সল আহমদের সঙ্গে পাশের কাকুড়া ও করিমপুর গ্রামের টমটম চালক রাশেদ, সিএনজিচালক মোহাম্মদ আলী ও সিরাজুলের মধ্যে ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
এর জের ধরে আজ সকাল ১০টার দিকে রাধাপুর ও জামারগাঁও গ্রামের লোকজন মাইকিং করে প্রস্তুতি নিয়ে কাকুড়া ও করিমপুর গ্রামের কাছে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চলে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ সময় রাধাপুর ও জামারগাঁও গ্রামের লোকজন দৌড়ে পালিয়ে গেলে পেছনে পড়ে যান রাধাপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে সাব্বির মিয়া (২৭)। তাকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষরা ঘিরে ধরে কুপিয়ে আহত করে। কিছুক্ষণ পর তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
কাকুড়া গ্রামের সলিমুল্লা মিয়া জানান, আমাদের গ্রামের টমটম চালক রাশেদ ও সিএনজিচালক মোহাম্মদ আলীকে রাধাপুর ও জামারগাঁও গ্রামের লোকজন মারধর করেছে। আজ সকালে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের গ্রামে এসে আক্রমণ করেছে। এর জেরেই সংঘর্ষ হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে বানিয়াচং সেনা ক্যাম্পের একটি দল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
পতাকানিউজ/এসসি/এমওয়াই

