যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজ নোবেল শান্তি পুরস্কার উপহার দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে একান্ত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান। মাচাদো বলেন, “আজ আমাদের জন্য ঐতিহাসিক একটি দিন।”
এই বৈঠক ঘটে এমন এক সময়, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করে এবং তার আটক করার চেষ্টা করে। যদিও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মাচাদো জয়ের দাবি করেছেন, ট্রাম্প এখনও তাকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। বরং যুক্তরাষ্ট্র ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যিনি মাদুরোর সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মাচাদো ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে “স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছেন, যা ইতিহাসের ২০০ বছর আগে সিমন বলিভারের সময়ের উদাহরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ট্রাম্প এই বৈঠককে “অনেক সম্মানজনক” ও “পারস্পরিক সম্মানের নিদর্শন” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈঠকটি কেবল নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এটি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রমাণের অংশ। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট বলেন, মাচাদো ভেনেজুয়েলার বহু মানুষের জন্য “এক সাহসী কণ্ঠস্বর”।
মাচাদোর সফরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসে সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠক এবং সমর্থকদের সামনে প্রকাশ্য বক্তব্য। এই সময়, মাচাদো ও ট্রাম্পের বৈঠকের মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন জোরদার করা এবং রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের ভূমিকা নির্ধারণ।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাত দ্রুত পুনর্গঠন করছে, যা আগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। এছাড়া মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার মতো কৌশলগত পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাচাদোর পদক্ষেপ, ট্রাম্পের বৈঠক এবং রদ্রিগেজের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন, সবই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চক্রান্তের সংমিশ্রণ, যা আগামী মাসগুলোতে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলার সম্পর্কের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র : বিবিসি
-পতাকানিউজ

