মাথার ত্বকে লালচে র্যাশ, খোসা ওঠা বা চুলকানির সমস্যা অনেকেরই পরিচিত। অবহেলা করলে এসব উপসর্গ থেকে জটিল সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মাথার ত্বকে ব্রণ, অ্যালার্জিজনিত সংক্রমণ, সিস্ট, সোরিয়াসিস কিংবা সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের মতো নানা সমস্যার কারণে এমন র্যাশ দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে সোরিয়াসিসে মাথার ত্বক থেকে মাছের আঁশের মতো চামড়া উঠতে থাকে। এর সঙ্গে তীব্র প্রদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি যুক্ত হয়। অনেক সময় চুলে খুশকির মতো মনে হলেও এটি সাধারণ খুশকি নয়। তাই মাথার ত্বকে লালচে র্যাশ বা অতিরিক্ত খোসা ওঠা শুরু হলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।
কীভাবে উপশম মিলতে পারে
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ঘরোয়া উপায়ে উপসর্গ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
নিম পাতার রস:
এক মুঠো নিমপাতা পানিতে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিন। শ্যাম্পু করার পর ওই পানি দিয়ে মাথার ত্বক ধুয়ে ফেলতে পারেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করলে চুলকানি ও সংক্রমণের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।
টি ট্রি অয়েল:
টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে র্যাশের জায়গায় হালকা করে লাগানো যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
মধু ও হলুদের প্যাক:
মাথার ত্বকে ব্রণ বা র্যাশ বেশি হলে কাঁচা হলুদ বেটে এক চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে। এক ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে আরাম মিলতে পারে।
কলা ও মধুর প্যাক:
একটি পাকা কলা ভালোভাবে চটকে তার সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে মাথার ত্বকে মেখে ১৫–২০ মিনিট রেখে ধুয়ে নেওয়া যায়। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং সংক্রমণ কমাতে সহায়ক হতে পারে। সপ্তাহে দু’দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
-পতাকানিউজ

