বগুড়ার শিবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মা-ছেলেকে জবাই করে হত্যার এক মাস পর প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে খোয়া যাওয়া মোটরসাইকেলটি নওগাঁ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে । এতে জট খুলেছে ওই হত্যাকাণ্ডের।
শনিবার, ১৮ অক্টোবর সকালে ঢাকার খিলক্ষেত থানার ডুমনি বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার মহির উদ্দিনের ছেলে মাহি ইসলাম (১৮), একই উপজেলার আব্দুল জলিলের ছেলে শাহিনুর রহমান জিসান (১৯) ও শহিদুল ইসলামের ছেলে সৈকত (২০)।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন। পুলিশ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে শিবগঞ্জের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী রাণী বেগম (৪০) এবং তার ছেলে ইমরান হোসেনকে (২২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মাদক ও ঋণের টাকা জোগাড় করতেই গ্রেপ্তাররা মা ও ছেলেকে খুন করে পালিয়ে যায়।
তদন্তে জানা যায়, নিহত ইমরানের মামাতো ভাই জিসান (২০) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার দুই বন্ধু মাহি ইসলাম ও সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইমরানের মোটরসাইকেল চুরির পর বিক্রি করে ঋণ শোধ ও মাদকের টাকা জোগাড় করা। চুরির সময় ইমরান বাধা দিলে প্রথমে তাকে ও পরে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মোটরসাইকেল লুট করে পালিয়ে যায় তারা।
১৫ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়ার পূর্ব নরসিংহপুর এলাকা থেকে মাহি ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মাহি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার দেয়া তথ্যে নওগাঁ সদর থেকে লুণ্ঠিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এরপর ১৮ অক্টোবর সকালে ঢাকার খিলক্ষেত থানার ডুমনি বাজার এলাকা থেকে জিসান ও সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিবগঞ্জ থানা ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর মা-ছেলের হত্যা মামলার ৩ আসামি আত্মগোপনে ছিলেন। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাজার এলাকায় এমনকি ছদ্মবেশে ওয়াইফাই সংযোগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।’
ওসি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার তিনজনই মাদকাসক্ত এবং ঋণগ্রস্ত। অর্থনৈতিক চাপ ও আসক্তির জালে পড়ে তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।’
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

