রাজধানী ঢাকার রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদরাসার গোসলখানা থেকে শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় ২ শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো শিক্ষকরা হলেন- রওয়াজাতুল উলূম হাফিজিয়া নুরারী মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়া (৩৫) ও হাফেজ মো. জোবায়ের আহম্মেদ (২০)।
আজ বিকেলে ২ শিক্ষককে আদালতে হাজির করে রাজধানীর কদমতলী থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই আমজাদ হোসেন আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস ছবুর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সোমবার, ৩ আগস্ট দুপুরে ওই মাদরাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে মো. নাঈম শেখ (১৩) নামে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তার মা নাজমা বেগম এ দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর রাত ১০টায় দুই শিক্ষককে মাদরাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলায় বলা হয়েছে, নাজমা বেগমের দুই ছেলেই ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করে। দুই শিক্ষক বিভিন্ন কারণে নাঈমকে নির্যাতন করতেন। নাঈম বিষয়টি তার মাকে জানায়। নাজমা তার ছেলেকে মাদরাসা থেকে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু শিক্ষকরা মাদরাসা থেকে ছাড়পত্র দেবেন না বলে জানান। নাঈম সেখানে পড়াশোনা করতে না চাওয়ায় শিক্ষকরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং নির্যাতন করতে থাকেন।
সোমবার দুপুর ১টায় নাঈম তার শিক্ষকদের জানায়, সে মাদরাসায় পড়বে না। তখন তাকে মারধর করা হয় এবং চ্যাংদোলা করে রাখা হয়। পরবর্তীতে দুপুর ১টা থেকে আড়াইটার মধ্যে আসামিরা নাঈমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

