মানিকগঞ্জ জেলা নদীপ্রবাহিত অঞ্চলের অন্যতম। যমুনা, পদ্মা, কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদীর তীব্র স্রোত প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জেলা জুড়ে বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নদীভাঙন শুধু ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতি ঘটাচ্ছে না, এটি হাজার হাজার মানুষের জীবিকাও বিপন্ন করছে।
২০২৫ সালের বর্ষাকালে দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর, ঘিওর ও সদর উপজেলার অন্তত ৬৪টি এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কার্যক্রম এখনও সীমিত।
গত এক দশকে মানিকগঞ্জে ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাঘুটিয়া, চরকালিয়াপুর, রংদারপাড়া, চরকাটারি, তেওতা, সুতালড়ি, আয়নাপুর, বার্তা বাজার, গঙ্গাপ্রসাদ, মালুচি, আজিমনগর, কাঞ্চনপুর, সেলিমপুর, হাতিঘাটা ও গোপীনাথপুরে নদীভাঙনের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতি স্থানীয় জনগণের জীবনকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করছে।
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, পাটুরিয়া ফেরিঘাটেও বর্ষাকালে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘাটের ৪ ও ৫ নম্বর স্থানে পদ্মার তীব্র স্রোত ফেরি চলাচল ব্যাহত করছে। নদী পার হতে আগের ২৫–৩০ মিনিটের পরিবর্তে এখন এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগে। এতে যাত্রী ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে এবং অতিরিক্ত চাপ বাড়ছে।
তীব্র স্রোত, অবৈধ বালু উত্তোলন, নদী তীরের অব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন এই প্রধান চার কারনে প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হচ্ছে এবং কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় প্রতিটি বর্ষায় একই পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে সময়োপযোগী স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদী তীর সংরক্ষণ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও স্রোত নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। জনদূর্ভোগ কমাতে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি। সরকারের পরিকল্পনা এবং স্থানীয় অংশগ্রহণ ছাড়া এ বিপর্যয় মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।
লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

