মানিকগঞ্জ সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মনছুর আলী তার চার বিঘা জমিতে চাষ করেন পেঁপে। আশা ছিল এবারের মৌসুমে হয়ত ভালোই ফলন হবে। কিন্তু বাস্তবে তার আশায় গুড়ে বালি পড়েছে। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পেঁপে গাছের ক্ষতি হওয়ায় মনছুরের কণ্ঠে এখন শুধুই হাহাকার। তিনি বলেন, ‘গোড়ায় পানি জমে সব গাছ মরে গেছে। তিনবার বিক্রি করেছি। কিন্তু খরচ উঠেনি। ঋণ শোধ করবো কীভাবে?’
শুধু মনছুর মিয়া একা নয়, একই উপজেলায় তার মতো আরও অনেক পেঁপে চাষী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এক সময় সবুজে ভরা জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফলন্ত পেঁপে গাছগুলো এখন পচে যাওয়া কান্ড আর শুকনো পাতার স্তূপ। চাষীরা জানান, এ অঞ্চলে ২৮ হেক্টর জমির পেঁপে গাছ নষ্ট হয়ে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মনছুরের পাশের জমিতে পেঁপে চাষ করা ছাত্তার প্রামাণিক ও হোসেন বেপারির অবস্থাও প্রায় একই। তারা বলেন, ‘তিন ফসলি জমিও এখন পানির নিচে। পানি নামতে পারছে না, আমাদের সব আশা শেষ।’

স্থানীয়রা বলছেন, সিংগাইরে উৎপাদিত পেঁপে ঢাকার বাজারসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে যায়। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার লেনদেনে স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখে। কিন্তু এবারের দুর্যোগে শুধু কৃষক নয়, বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পেঁপে চাষের এ ক্ষতি স্থানীয় বাজার থেকে শুরু করে দেশের সব বাজারে প্রভাব ফেলবে।
জয়মন্টপ ইউনিয়নের দেওলী গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক প্রবাস জীবন ছেড়ে ফিরে এসে কৃষিকে আঁকড়ে ধরেন। জীবিকার নতুন ভরসা হিসেবে বেছে নেন পেঁপে চাষ। চার বিঘা জমিতে পেঁপের আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তার সেই স্বপ্নের বাগান এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মাত্র তিনবার বিক্রি করতে পেরেছি। সব খরচ এখন উঠেনি। এখন জমি ফাঁকা। এখন পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা ছাড়া আর কিছুই নেই। যদি সরকারি সহায়তা মিলে তাহলে হয়ত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারতাম।’
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার চৌধুরী বললেন, ‘সিংগাইরে চলতি বছর ৮৫০ হেক্টর জমিতে পেঁপে আবাদ হয়েছে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত ২৮ হেক্টর জমির পেঁপে নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছাড়া ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়।’
পতাকানিউজ/জেএইচসি/আরবি

