সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তার মামা ওবায়দুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর ওবায়দুরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করে আদালত।
আদালতে রিমান্ডের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক, তাদের কথিত বিয়ে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে ওবায়দুর অবগত ছিলেন। বিষয়টি আত্মহত্যা নাকি হত্যার ঘটনা, তা উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তারা দাবি করেন।
তবে রিমান্ডের বিরোধিতা করে ওবায়দুরের আইনজীবী গোলাম সাবের চৌধুরী বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের সম্পর্কের বিষয়ে ওবায়দুর প্রতিবাদ করেছিলেন। তার দাবি, মরিয়মের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানার জন্যই ওবায়দুর তার প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।
আইনজীবী আরও বলেন, মামলায় ওবায়দুরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার সুনির্দিষ্ট কোনো ভূমিকার কথা নেই। বিয়েতে সাক্ষী থাকা আর আত্মহত্যায় প্ররোচনার সঙ্গে জড়িত থাকা এক বিষয় নয়। তাই রিমান্ড বাতিল করে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওবায়দুরের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পতাকানিউজ/এএ

