বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘিরে দলের অভ্যন্তরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে তাঁর চলমান চিকিৎসা এবং জটিলতা বাড়ার খবর পাওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনায় এসেছে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে ফেরার বিষয়টি।
দলীয় সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মায়ের চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান নিয়মিতভাবে চিকিৎসক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। জুবাইদা রহমান নিজেও মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হওয়ায় সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসা অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য—প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান এবং খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার—হাসপাতালেই অবস্থান করছেন।
গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল থেকে রাত অবধি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা হাসপাতালে জড়ো হন, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তোলে। দলের ভেতরের আলোচনা অনুযায়ী, এই সংকটজনক অবস্থার কারণেই তারেক রহমান পরিকল্পনার আগেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আগামী ডিসেম্বরের শুরুতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে থেকেই তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে দলের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছিল। বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। দেশে ফিরলে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও দলের পরিকল্পনায় ছিল।
সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন সামনে রেখে নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বাসভবন সংস্কার ও অফিস প্রস্তুতকরণ—সবই প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের ভাষ্য, লন্ডন থেকে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের জন্য যাওয়ার পর সেখান থেকেই ঢাকায় ফেরার একটি পরিকল্পনা ছিল।
তবে খালেদা জিয়ার হঠাৎ শারীরিক অবনতি পরিস্থিতিকে অন্যদিকে নিয়ে গেছে। পরিবারের সদস্য এবং দলীয় নেতাদের উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত দেশে ফেরা এখন তারেক রহমানের অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
পতাকানিউজ/এনটি

