লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর শুক্রবার হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছে ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। ইরান সতর্ক করে বলেছে যে যদি ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকে তাহলে তারা আবার এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক ঘোষণায় বলেছেন, “লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়কালের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত হরমুজ প্রণালির সমন্বিত পথ দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল।”
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু এ প্রণালিটি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এ পথে বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় আর তা শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার অ্যারিজোনায় এক জনসভায় সমর্থকদের বলেছেন, আরাকচির ঘোষণা ‘বিশ্বের জন্য একটি মহান ও উজ্জ্বল দিন হিসেবে’ চিহ্নিত হয়েছে।
কিন্তু এরপর উভয়পক্ষ থেকে আসা বিবৃতি ও ব্যাখ্যাগুলোর কারণে কতো দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শুক্রবার কিছু জাহাজকে প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে দেখা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এতে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও জ্যেষ্ঠ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কলিবফ সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালিটিও খোলা থাকবে না।’
তিনি বলেছেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে শুক্রবার ট্রাম্প অনেকগুলো মিথ্যা দাবি করেছেন।
ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালি পার হতে চাওয়া সব জাহাজকে অবশ্যই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েল বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘শত্রুর বাহিনীগুলোর’ সঙ্গে সম্পর্কিত সামরিক জাহাজাগুলোকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) প্রণালিটি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পতাকানিউজ

