মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন-বিরোধী এক ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৭৭০ জন অনিবন্ধিত শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। অভিযানটি রাতে, বুকিত বিনতাং এলাকায় পরিচালিত হয়, যেখানে শহরের কেন্দ্রীয় নাইটলাইফ এলাকা অবস্থান করছে।
আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ বাংলাদেশি; প্রায় ৪০০ জনের মধ্যে ৩৯৪ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। এছাড়া মিয়ানমার, নেপাল, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও অভিযানে ধরা পড়েছেন।
অভিযানটি ‘অপস বেলাঞ্জা’ নামে পরিচিত। দুই ঘণ্টার মধ্যে পুরো এলাকাটি লকডাউন করা হয় এবং তিনটি ব্লকের প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থানপথ ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় অনেক অনিবন্ধিত শ্রমিক দোকানপাটের ভিতর, টেবিলের নিচে অথবা ছাদে লুকিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা আটক হন। অভিযানে অংশ নেন পুত্রজায়া থেকে আগত ১০৬ জন অভিবাসন কর্মকর্তা, এবং অভিযান পরিচালনা করেন অভিবাসন বিভাগের পরিচালক বাসরি ওসমান।
পরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালীন ২ হাজার ৪৪৫ জনকে তল্লাশি করা হয়, যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ জন বিদেশি এবং ৮৪৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা। আটকদের মূল অভিযোগ ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা, বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা এবং অনুমতি ছাড়া কাজ করা। বাসরি জানান, অনিবন্ধিত শ্রমিকরা মূলত দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে মালয়েশিয়ায় আসে এবং নির্মাণ কাজ, বাগান বা স্থানীয়রা অনীহা প্রকাশ করা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কাজ করে থাকেন।
অভিযান পরিচালনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল বুকিত বিনতাং এলাকায় অনিবন্ধিত শ্রমিকদের অবস্থান নিয়ে বারবার অভিযোগ পাওয়া। বাসরি ওসমান বলেন, ‘এ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অনিবন্ধিত শ্রমিকদের জন্য আকর্ষণীয়। নাইটলাইফ ও শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান তাদের জন্য সুবিধাজনক। আমরা তিন সপ্তাহ ধরে পর্যবেক্ষণ চালানোর পর অভিযান পরিচালনা করি।’
অভিযানের সময় কর্মকর্তারা একটি গোপন অনলাইন জুয়ার আসরও উদ্ধার করেন, যেখানে সাত থেকে আটজন বিদেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে জুয়া খেলছিল। এছাড়া এলাকার কিছু দোকান বিদেশিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনিবন্ধিত শ্রমিকরা সেখানে জড়ো হয়ে থাকেন। আটকদের প্রাথমিক যাচাইয়ের পর পুত্রজায়ার অভিবাসন দপ্তরে পাঠানো হবে এবং পরে আটককেন্দ্রে নেওয়া হবে। বাসরি জানান, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে শুধুমাত্র অনুমোদিত কোটার মধ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগ হয়।
পতাকানিউজ/এনটি

