মালয়েশিয়া পাচারের আগে কক্সবাজারের টেকনাফে জিম্মি করে রাখা নারী ও শিশুসহ সাত রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানের সময় পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার বিকেলে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় একটি বসতঘরে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কয়েকজনকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে—এমন গোপন তথ্য পায় কোস্ট গার্ড। খবরের ভিত্তিতে একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়। কোস্ট গার্ড সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের তিন থেকে চারজন সদস্য দ্রুত পালিয়ে যায়। ধাওয়া করা হলেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে সন্দেহভাজন বসতঘরটি তল্লাশি চালিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা এক শিশুসহ ছয় নারী—মোট সাত রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সবাই টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
উদ্ধার ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারে কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। উন্নত জীবনযাপন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং স্বল্প খরচে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এসব চক্র কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের সংগ্রহ করে। পরে সুযোগ বুঝে তাদের উপকূলীয় এলাকায় এনে গোপন আস্তানায় আটকে রেখে সমুদ্রপথে পাচারের চেষ্টা করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সাত রোহিঙ্গাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার পর তাদের স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি পাচারচক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
মানবপাচার পরিস্থিতি ও মালয়েশিয়া রুট
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম এলেই কক্সবাজার উপকূলকে কেন্দ্র করে মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়কে পাচারকারীরা “সেফ সিজন” হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এই সময় সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকায় ছোট ট্রলার ও ফিশিং বোটে করে শত শত মানুষকে মালয়েশিয়া পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নিম্নআয়ের মানুষের একটি অংশ উন্নত জীবনের আশায় এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় রাজি হন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রতারণা, নির্যাতন, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, এমনকি প্রাণহানির শিকার হন।
-পতাকানিউজ/এনএ

