বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এই মুহূর্তে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তিনি পুনরায় ফিরবেন –এমন আশা বিএনপিসহ দেশের মানুষ করলেও বাস্তবতা মহান আল্লাহই ভালো জানেন। সেই কারণে পুরো দেশের মানুষ এখন খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করছেন মহান আল্লাহর দরবারে।
মায়ের এমন অন্তিম সময়ে বেঁচে থাকা একমাত্র সন্তান তারেক রহমান অবস্থান করছেন লন্ডনে। দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি। ঠিক কী কারণে ফিরতে পারছেন না তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ না করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফিরতে না পারার কারণ সম্পর্কে যে কথা লিখেছেন তাতেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের সোরগোল পড়ে গেছে। এদিকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণা অনুযায়ী যদি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে হাতে সময় আছে মাত্র দুই মাসের কয়েকদিন বেশি।
সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ইতোমধ্যেই সারাদেশে বেশিরভাগ আসনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও আছেন। ইতোমধ্যেই দিনাজপুর থেকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার খবরও আমরা পতাকানিউজের পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।
কিন্তু এরই মধ্যে সারাদেশের মানুষ খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি নিয়েই বেশি দোয়া করছেন। দেশের মানুষের প্রত্যাশা-বেগম জিয়া পুনরায় রাজনীতির মাঠে ফিরবেন। সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে যাবেন। হয়তো রাষ্ট্রপতির আসনেও বসবেন।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের মতো অনেক সাধারণ মানুষও বিশ্বাস করেন- এই মুহূর্তে খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনায় বড্ড বেশি প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা এবং বাধ্যর্কে উপনীত খালেদা জিয়ার ভবিষ্যত মহান আল্লাহ-ই ভালো জানেন। তারপরও মানুষের প্রত্যাশার শেষ নেই। সেই প্রত্যাশা নিয়েই আছে মানুষ। কিন্তু এখন বড় আলোচনার বিষয় হচ্ছে মায়ের এমন কঠিন সময়ে কেন মায়ের পাশে ফিরতে পারছেন না তারেক রহমান? তার দেশে ফিরতে বাধা কোথায়?
সরকার তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে- তারেক রহমান দেশে ফেরার পথে বাধা নেই। কিন্তু তারেক রহমান নিজেই জানিয়েছেন বাধা আছে। ঠিক এখানে গোলমাল লেগেছে।
সেই বাধা কী? যে বাধার ডিঙ্গি পেরিয়ে মায়ের কোলে ফিরতে পারছেন না তারেক? রাষ্ট্রীয় বাধা না থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো বাধা কি আছে? যদিও দুটি দেশের কৌশলগত বাধার বিষয়টি এখন মিডিয়ায় আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায় কিংবা কলকাঠি নাড়ে এমন দুটি দেশের নাম আলোচনায় এসেছে।
তাহলে নতুন প্রশ্ন- ওই দেশ দুটি আসলে কি চায়? বাংলাদেশকে তারা কোথায় নিতে চায়? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায় না। হয়তো সময়ই একদিন বলে দেবে। কিন্তু মাঝখানে মা-সন্তানের দেখা হবে না-এই বাস্তবতা হয়তো বিএনপিকে মেনে নিতেই হচ্ছে।
নির্বাচন হবে তো?
তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশে ফিরতে না পারার বিষয়টি স্পষ্ট করার পর থেকেই আলোচনা তৈরি হয়েছে নির্বাচন হবে তো? কোনো কোনো বুদ্ধিজীবী ইতোমধ্যেই নির্বাচন হবে না-এমন মন্তব্য করে নানা ধরনের যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। যদিও সরকার এখনো নির্বাচনের পক্ষ অবস্থান বলে স্পষ্ট করেছে। দেশে নির্বাচন না হলে কি হবে- সেই আশঙ্কার মেঘ অনেক মানুষের মনে উঁকি দিচ্ছে। আর নির্বাচন হলেই বা কি হবে? সেই আলোচনা তো আছেই।
এটা ঠিক- ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর বিএনপি যে বেহাল দশায় পড়েছিল, সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেছিলেন ওই সময়ের গৃহবধূ খালেদা জিয়া। এই গৃহবধূই ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করে রাজনৈতিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। দলটির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের পর তিনি নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে চেয়ারপার্সনের পদে অধিষ্টিত হয়েছিলেন। আর তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপালন করেছিলেন।
সেই খালেদা জিয়ার জীবনের কঠিন সময়ে নির্বাসিত ছেলেকে পাশে পাচ্ছেন না। এটাই এই মুহূর্তের চরম বাস্তবতা।
এমন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপি হয়তো ভাবছে- কী এমন শক্তির মুখে পড়েছে দলটি, যে কারণে অন্তিম সময়েও মা-ছেলের সাক্ষাত হচ্ছে না? তারেক রহমান এবং দলগতভাবে বিএনপি হয়তো সেই বাধা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তারপরও দলটি অদৃশ্য সেই বাধার প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে সন্তান ফিরতে পারছেন না মায়ের কোলে।
এখনই তারেক রহমান সেই বাধার প্রাচীর সম্পর্কে হয়তো কিছু বলছেন না। নিশ্চয় সময় এলে একদিন বলবেন। হয়তো ততোদিনে তিনি অনেক কিছুই হারাবেন। তারপরও তাঁকে হয়তো সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মী ও দেশবাসীকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সেই বাধার প্রাচীর সম্পর্কে জানতে ।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, পতাকানিউজ
পতাকানিউজ/কেএস

