মিয়ানমারের জান্তা নেতা মিন অং হ্লেইং-কে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। সোমবার (৩০ মার্চ) শুরু হওয়া প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষকরা সামরিক শাসনের ‘নাগরিক রূপান্তর’ হিসেবে দেখছেন। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন লাভের আগে তিনি সেনাপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের পর এটি হবে প্রথম নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ।
দেশটির পার্লামেন্টে সামরিকপন্থী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মিন অং হ্লেইংয়ের রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী বড় দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় নতুন সংসদের গঠন নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমার জুড়ে সংঘাত ও গৃহযুদ্ধ চলমান। এই সময় সহিংসতা ও সংঘর্ষে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনো বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথ সুগম করতে মিন অং হ্লেইং সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেনারেল ইয়েউইন উ’কে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে প্রভাব ধরে রাখতে একটি নতুন পরামর্শক কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সামরিক সরকারের কাঠামোগত রূপান্তর ঘটলেও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে মূলত একই নেতৃত্বই থাকবে। বিরোধীদের ওপর চলমান দমননীতি বদলানোর কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
-সূত্র : রয়টার্স
-পতাকানিউজ

