পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে যখন সাধারণ মানুষ উৎসবের আমেজে ঘরমুখো, তখন মীরসরাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যস্ত সময় পার করেছে।
ঈদের ছুটিতে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সময়ে ২০ জন নবজাতকের নিরাপদ জন্মের মধ্য দিয়ে মানবিক সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০ শিশুর জন্মহাসিতে ঈদের আনন্দকেই যেন অন্যমাত্রা পেয়েছে মিরসরাইয়ে।
ঈদের ছুটিতে গর্ভবতী মায়েদের ঝুঁকি সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে মা ও নবজাতকের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়। এই সময় ২০টি শিশু দুনিয়ার আলোতে এসেছে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। কোনো মাকেই সার্জারি (সিজার) করাতে হয়নি।
সিজারের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও চিকিৎসকদের ঐকান্তিক চেষ্টায় ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ নবজাতকের মুখ দেখেছেন মায়েরা। এতে প্রসূতি মায়েরা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অতিরিক্ত খরচ থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
মীরসরাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অমিত মোদক জানান, ‘ঈদের ৭ দিনের ছুটিতে আমাদের সেবা কার্যক্রমের আওতায় ২০ জন নবজাতক জন্ম নিয়েছে। মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ আছে। এই সময়ে ১৫২ জন মাকে এএনসি এবং ৫৬ জন মাকে প্রসব-পরবর্তী পিএনসি সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ বছর বয়সী ২৬ জন শিশু এবং ১-৫ বছর বয়সী ৯০ জন শিশুকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ রোগী হিসেবে সেবা নিয়েছেন আরও ২১০ জন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে এলাকায় মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেবার চাহিদা ছিল বেশি, তবে কেউ যাতে চিকিৎসা বঞ্চিত না হয় সেদিকে আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা ছিল।’
বিভাগীয় এই সাফল্য অর্জনে সার্বিক দিকনির্দেশনায় ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিন এবং উপপরিচালক বেগম সাহান ওয়াজ। এছাড়া সহকারী পরিচালক (সিসি) ডা. শামীমা হাসনাত এবং মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. মো. নাজমুল হোসাইনসহ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিরলস সেবা দিয়েছেন।
-পতাকানিউজ

