স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোন এক ব্যক্তির নির্দেশে কিছু হয়নি। সেদিন (১৯৭১ সালে) শেখ মুজিবুর রহমান বন্দি হয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হামলায় যখন মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন তখন মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
শনিবার, ৪ এপ্রিল সকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সদরদপ্তর হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেদিন তার কাছে সেনা সদস্যরা এসে পরামর্শ চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন আপনারা অস্ত্র সমর্পণ করবেন না। এরপর তিনি দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। সেখান থেকে পাকিস্তানী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি বলেন, এ তেলিয়াপাড়া থেকেই মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সুচনা হয়। তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্ণেল আতাউল গণি ওসমানির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। অথচ আওয়ামী লীগ ওসমানিকে কোন মূল্যায়ন করেনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। শুধু সংস্কার চায় না, সংস্কার বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করতে চায়। তাদের স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব, আমাদের অস্তিত্ব।
২৪’র গণঅভ্যুত্থান নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন আমাদের আরেকটি গৌরবের ইতিহাস। আমরা জুলাই সংগ্রাম ও অভ্যুত্থানকে ধারণ করি।
দলীয় শৃঙ্খলা সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। তাই বিএনপিতে কোনো দুষ্ট মানুষের ঠাই হবে না।
এসময় অবহেলিত চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা এ ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর নির্মাণের দাবি জানান।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব হুমায়ূন কবিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ—২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব সাদেক খান।
পতাকানিউজ/এসসি/আরবি

