উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার পেরু। পেরুর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেটসি চাভেজকে মেক্সিকো রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ। ২০২২ সালে এক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই প্রধানমন্ত্রী বিচারাধীন আছেন।
পেরুর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেটসি চাভেজ পালিয়ে দেশটির মেক্সিকান দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় লিমা। মেক্সিকোয় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে চাভেজ এমনটি করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেরুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুগো দে জেলা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সোমবার তারা জানতে পারেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী চাভেজ মেক্সিকোর দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছেন।
আজ আমরা গভীর দুঃখ ও বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পেরেছি যে বেটসি চাভেজকে পেরুর মেক্সিকান দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাসতিয়োর অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অভিযুক্ত সহযোগী, সংবাদ সম্মেলনে জেলা এমনটি বলেছেন বলে তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে আল জাজিরা।
এই অপ্রীতিকর পদক্ষেপের জবাবে এবং বর্তমান ও সাবেক মেক্সিকান প্রেসিডেন্টদের বারবার পেরুর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, সরকার আজ মেক্সিকোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বলেন তিনি।
পেরুর এ পদক্ষেপের বিষয়ে মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বেটসি চাভেজ ছিলেন পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট কাসতিয়োর সরকারের প্রধানমন্ত্রী। কাস্তিয়ো ২০২২ সালের শেষ দিকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংসদ কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত হন।
সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চাভেজের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলছে। ২০২৩ সালের জুনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বিচারাধীন অবস্থায় জামিনে মুক্তি পান তিনি।
ওদিকে তার আইনজীবী রাউল নোব্লেসিলা স্থানীয় রেডিও স্টেশন আরপিপিকে বলেন, কয়েক দিন ধরে তিনি তার মক্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না এবং জানেন না, তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন কিনা।
চাভেভেজের গাড়িচালক আগেই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, ২০২২ সালে কাসতিয়োর সংসদ ভাঙার প্রচেষ্টা চলাকালে চাভেজ তাকে মেক্সিকোর দূতাবাসে নিয়ে যেতে বলেছিলেন, তবে পরে তিনি (চাভেজ) নিজ দপ্তরে ফিরে যান।
অবশ্য চাভেজ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কাসতিয়োর পরিকল্পনা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। সরকারি কৌঁসুলিরা আদালতের কাছে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন করেছেন।
এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরেই পেরু মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। কারণ, মেক্সিকো তখন কাস্তিয়োর স্ত্রী ও সন্তানদের আশ্রয় দিয়েছিল। এর ফলে দু’দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পতাকানিউজ/টিআইএ

